ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান সুলতানা কামালের


প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ২৫ জুন ২০১৫

ভারতের পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন এবং বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময় ছিটমহল বিনিময়ের দলিল হস্তান্তরের পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলে একে একে আসছেন রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রদূত, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ারছড়া পরিদর্শন করেছেন আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

তিনি তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অমানবিক জীবন-যাপনের কথা শোনেন। এসময় ছিটমহলের কালিরহাট বাজারে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনি বলেন, `ছিটমহলের মানুষের অতীত জীবনের কাহিনী শুনে আমার মনে হচ্ছে অতীতে এই জনপদের মানুষগুলো চরম মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন। মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে তারা ছিলেন পুরোপুরি বঞ্চিত। চুক্তি বাস্তবায়নের পর তাদের সেই বঞ্চনার অবসান হবে। তারা ফিরে পাবেন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার।

তিনি দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জীকে অভিনন্দন জানান।

এসময় তিনি বলেন, ৫২-র ভাষা অন্দোলন থেকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক গর্বিত নাগরিক হলেও ছিটবাসীরা তা থেকে ছিল বঞ্চিত,পারেননি পরিচয় দিতে। একজন মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে, মাথার ওপরে ছাদ না থাকতে পারে, কিন্তু নিজের পরিচয় না থাকাটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ছিটবাসীর সংগ্রামের সঙ্গে আমরা সব সময় একাত্বতাবোধ করেছি। তাদের উন্নয়নে আমরা সচেষ্ট আছি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. আব্রাহাম লিংকন বলেন, দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে বিগত সরকার এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অথচ বর্তমান সরকার এ চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে। দাস থেকে মুক্ত ছিটমহলের মানুষ। এখন আপনারা স্বাধীন। ১১১ছিট মহলের নারী পুরুষ বন্দী জীবন থেকে মুক্ত হয়েছেন। এখন সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সকল প্রকার উন্নয়ন হবে। রাস্তা, সেতু, স্কুল হাসপাতাল সবই হবে। সরকার আগামী অর্থবছরে ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।

ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মইনুল হকের সভাপতিত্বে এসময় কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. আব্রাহাম লিংকন, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অফিসার ইনচার্জ বজলুর রশিদ, ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও দাশিয়ার ছড়া ইউনিটের সভাপতি আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক রাজু মোস্তাফিজ বক্তব্য রাখেন।

নাজমুল হোসেন/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।