কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : নারী-শিশুসহ নিহত ৭


প্রকাশিত: ১০:৫০ এএম, ২৬ জুন ২০১৫

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে ও বাড়ির দেয়াল ধসে মারা গেছেন ৫ জন। অপরদিকে সেন্টমার্টিনে নারিকেল গাছ চাপা পড়ে মারা গেছেন এক মা ও শিশু।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে জেলার রামু, চকরিয়া, সদর, পেকুয়াসহ ৮ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়েছে অন্তত ৫ লাখ মানুষ।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, উপজেলার কচ্ছপিয়া, উখিয়ার ঘোনা, কাউয়াখোপ ও জোয়ারিয়া নালা এলাকায় ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, খতিজা বেগম (৩৫), হালিমা বেগম (২৭), মোহাম্মদ রিদুয়ান (৬) ও জুুনু মিয়া (৬০)।  

এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২ জন ও শুক্রবার সকালে ২ জনের পানিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার সকালে রামু উপজেলার কাউয়াখোপ এলাকায় মাটির দেয়াল ধসে আমির হোসেন (৪০) নামের অপর একজন মারা গেছেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, রামু উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঁকখালী নদীর ঢলের তোড়ে রামু সদরের হাইটুপি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

অপরদিকে, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় অসংখ্য গাছপালা ও ঘরবাড়ি উপড়ে গেছে। এতে নারিকেল গাছ চাপা পড়ে মারা গেছে এক মা ও শিশু। নিহতরা হলেন, সেন্টমার্টিনের কোনারপাড়ার নুর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) ও তাদের শিশু পুত্র মোহাম্মদ জিশান (৪)।

সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিনে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া আঘাত হানে। এতে বহু গাছপালা, বাড়ি-ঘর ও মসজিদ মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঝড়ো হাওয়ায় নারিকেল গাছ চাপা পড়ে মা ও শিশু মারা যায়। এতে বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। কিন্তু দ্বীপের হাসপাতালে কোনো ডাক্তার না থাকায় আহতরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না।



সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, টর্নেডোর আঘাতে দ্বীপের সর্বত্র কম-বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬ ও ৮ নং ওয়ার্ড এলাকা। চকিদার ইসমাইলের বাসাবাড়িসহ বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসা। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এখনো অসংখ্য বাড়ি পানির নীচে রয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত প্রায় ১ সপ্তাহ অবিরাম বর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন দ্বীপ নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। তার উপর টর্নেডোর আঘাত সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীকে চর্তুমুখী সমস্যায় ফেলেছে।  

অপরদিকে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ ইকবাল অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে অতি ঝুঁকিতে বসবাসকারী ১২০ পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে দিয়েছে। ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনা এড়াতে আরো দু`শতাধিক পরিবারকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।

সরিয়ে দেয়া পরিবারগুলোকে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা নেয়া হলেও তারা নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানান ইউএনও।

এর আগে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পৌরসভার ফকিরামুরা এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, বনবিভাগ এবং স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করে এলাকাবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।

এদিকে, সদরের ঈদগাঁওতে ঢলের তোড়ে বাঁশঘাটা এলাকার ব্রিজটি মাঝখান দিয়ে ধসে গেছে। ভোমরিয়াঘোনা এলাকায় ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক ভেঙে পানি ঢুকে ভেঙে গেছে ভাদিতলা এলাকা সড়কসহ একাধিক উপসড়ক। পানিবন্দী হয়ে আছে শত শত বাড়িঘর। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে বন্ধ রয়েছে রান্না-বান্না।

চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়াতে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এখানেও ভেঙে গেছে খালের বাঁধ, সড়ক ও উপ-সড়ক।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জাগো নিউজকে বলেন, সব উপজেলা থেকেই ভয়াবহ ভোগান্তির বার্তা আসছে। পানিবন্দী মানুষগুলোকে সহযোগিতার চেষ্টা করছে প্রশাসন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, জরুরি সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনে খোলা হচ্ছে কন্ট্রোল কক্ষ।

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।