বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি : বেড়েছে দুর্ভোগ


প্রকাশিত: ১০:২০ এএম, ২৭ জুন ২০১৫

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটেছে। তবে দুর্গত এলাকায় বানভাসিদের দুর্ভোগ রয়েই গেছে। শনিবার সকাল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হওয়ায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকলেও শনিবার সকাল থেকে তা নেমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে পরিবারগুলো ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

বন্যা কবলিত বাসা বাড়ি থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ঘরবাড়িগুলো কাঁদামাটিতে ভরপুর। যার ফলে পরিবারগুলো পড়েছে চরম দুর্ভোগে। আর রান্না-বান্নার সমস্যা প্রকট। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা এসব এলাকায় শুকনো খাবার হিসাবে চিড়া গুড় বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। স্থবির হয়ে পড়া জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ইতোমধ্যে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আরো জানা যায়, নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপদজনক হওয়ার কারণে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে জেলার থানচি উপজেলার নৌঘাট থেকে কোনো নৌযান তিন্দু ও রেমাক্রীর উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়নি। জেলার সঙ্গে তিন্দু ও রেমাক্রীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে নৌ যোগাযোগের উপর নির্ভরশীল ওই ইউনিয়নের মানুষ।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে যাওয়ার কারণে বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাংবাদিক আব্দুর রশিদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, ছয়দিনের টানা বর্ষণে চতুর্থ দিনের মতো বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক বড়দুয়ারা এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। এরফলে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বান্দরবান জেলা শহরের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু শাফায়েত জানান, সারাদেশের সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। আর উপজেলার ১৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১২ হাজার টন চাল জেলা সদর থেকে আসা শুরু করেছে। এতদিন স্থানীয় উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা সহযোগিতা করা হয়েছে।

সৈকত দাশ/এআরএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।