পাহাড় রক্ষায় কক্সবাজারে নেমেছে টাস্কফোর্স

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৭

অবশেষে পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে বন বিভাগ-ও জেলা প্রশাসন। টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে একদিনেই বালু ভর্তি ডাম্পার ও গাছ বোঝাই ট্রাক জব্দ করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে অবৈধ বালি উত্তোলনের দায়ে একজনকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে শ্যালোমেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল একটি চক্র। দীর্ঘদিনের এ অভিযোগের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বনবিভাগ ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স দলটি অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে বালু ভর্তি দুটি ডাম্পার জব্দ করা হয়।

এসময় ইজারা চুক্তির লঙ্ঘনের অভিযোগে বালু মহাল ইজারাদার সাইফুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়ার ফুলছড়ি রেঞ্জের খূটাখালী বনবিটের মধুশিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এ অভিযান চলে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহম্মেদ, র্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো.রুহুল আমিন ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (ফুলছড়ি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও বন কর্মকর্তা একেএম আতা এলাহি।

একইদিন বিকেলে টাস্কফোর্স সদস্যরা উপজেলার ফাঁসিয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ চোরাই গর্জন ও আকাশমনি গাছ ভর্তি একটি ট্রাকও জব্দ করেছে। গাছসহ গাড়িটি রেঞ্জ কার্যালয়ের হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন।

বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের খূটাখালী বনবিটের অধীন মধুশিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন খূটাখালী ছড়িবিল এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম জেলা প্রশাসন থেকে বালু মহাল ইজারা নিলেও তিনি বালু উত্তোলনকালে মহাল এলাকা অতিক্রম করে বনবিভাগের জায়গা কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।

রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহম্মেদের নেতৃত্বে র্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি দল ও বনকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

বন বিভাগ সূত্র আরও জানায়, একইভাবে কক্সবাজারের পেকুয়া, সদর উপজেলার নাপিতখালী, ঈদগাঁও, রামুর জোয়ারিয়ানালা, খুনিয়াপালং, মিঠাছড়ি, উখিয়ার হিজলিয়া, হরিনমারাসহ জেলার পাহাড়ি এলাকার ঝিরি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সেসব এলাকাতেও ক্রমান্বয়ে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বালি তুলতে গিয়ে অনেক পাহাড় ধস হয়েছে। এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। আরও আগে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল। দেরিতে হলেও অভিযান শুরু হওয়ায় প্রকৃতি রক্ষায় আমরা আশাবাদী।

পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।