২৫ কোটি টাকার অবিক্রিত চিনি নিয়ে বিপাকে রংপুর চিনিকল


প্রকাশিত: ০৩:১১ পিএম, ০১ জুলাই ২০১৫

কয়েক দফা দাম কমিয়েও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের উৎপাদিত চিনি বাজারে বিক্রি হচ্ছে না।  এদিকে ওই চিনিকলের ৮১২ জন শ্রমিক-কর্মচারী ৩ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় এই রোজার মাসে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। আসন্ন ঈদ উৎসব কি পরিস্থিতিতে কাটবে তা তাদের দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রংপুর চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদিত চিনি অবিক্রিত থাকায় অর্থাভাবে এ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের প্রায় ২ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

চিনিকল সূত্র জানায়, মহিমাগঞ্জ রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ গত দু’বছরে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রথমে ৫০ থেকে ৪৫ টাকা, এর পরে  ৪৫ থেকে ৪০ টাকা এবং সর্বশেষে ৩৭ টাকায় নামিয়ে আনলেও বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে না।  কারণ এই কারখানা চিনির দাম কমানোর সাথে সাথে বেসরকারি চিনিকলগুলো ৪ থেকে ৫ টাকা করে দাম কমিয়ে দেয়।

একটি সূত্র জানায়, এ অবস্থা শুধু রংপুর চিনিকলই নয় বরং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার আওতাধীন দেশের ১৫টি চিনিকলেই।  গত ২৫ মে পর্যন্ত ১৫টি চিনিকলে অবিক্রিত মজুদ চিনির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন।  এরমধ্যে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলেই অবিক্রিত চিনি ছিল ৬ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন।  চিনি বিক্রি না হওয়ায় রংপুর চিনিকলসহ দেশের প্রায় ১৫টি চিনিকলেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ২-৩ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে গত ২৫ মে থেকে বিএসএফআইসি ১ ও ২ কেজি ওজনের পলিব্যাগে চিনি প্যাকেট করে খোলাবাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।  কিন্তু তাতেও কাঙ্খিত কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এরপরও ১ জুলাই বুধবার পর্যন্ত মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলেই অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে ছিল ২৫ কোটি টাকার ৬ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন চিনি।

এ ব্যাপারে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল খালেক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিসহ শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জনানো হয়েছে।  এ ব্যপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অমি দাশ/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।