রাবি ছাত্রী অপহরণ, স্বামীসহ ২ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের ছাত্রী শাহী উম্মে আম্মানা শোভাকে (২১) অপহরণের দায়ে তার স্বামী সোহেল রানাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকেলে রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত-১ তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওই মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে মামলার আরেক আসামি মাইক্রোবাসচালক জাহিদুল ইসলামকে। তবে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে মামলার আসামি ও সোহেলের বাবা জয়নাল আবেদীনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

শুক্রবার রাতে নওগাঁর পত্নীতলা থেকে পুলিশ জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করে। এরপর ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শেখেরটেক রায়েরবাজার এলাকার একটি কাজী অফিস থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে তার সাবেক স্বামী সোহেলকেও গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাতেই তাদের রাজশাহীতে নেয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন জানান, রোববার বিকেলে গ্রেফতার জয়নাল আবেদীন বাদে অন্য দুই আসামির একদিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন রাজশাহী মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবুর রহমান। ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে তোলা হয়। রাত থেকেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিকেলে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত-৩ এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম অপহৃত ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। পরে আদালত আবেদনের প্রেক্ষিতে ছাত্রীকে তার বাবা-মার জিম্মায় দেন। এর আগে দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে এ নিয়ে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। কিছু দিন আগে স্বামীকে তালাক দেন ওই ছাত্রী। বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার আগেই বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্ত্রীকে শুক্রবার ক্যাম্পাস থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান সোহেল রানা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হয়েছিলেন। হলের সামনে মাইক্রোবাস নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তার সাবেক স্বামী সোহেল রানা।

সেখানে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান সোহেল ও তার সহযোগীরা। পরে ওই ছাত্রীর সন্ধান চেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় মতিহার থানায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানাসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।