অর্ধশতাধিক পদের ভর্তার ঘ্রাণে ঈদের ভিন্ন আনন্দ

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ২৪ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, রঙিন মুহূর্ত আর সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। তবে সেই চিরচেনা আনন্দকে ভিন্ন স্বাদে রাঙিয়ে তুলেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের ফিরিন্দা গ্রামের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে দিনব্যাপী ফিরিন্দা গ্রামে অনুষ্ঠিত এ উৎসব যেন বাঙালির চিরায়ত খাদ্য সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার এক প্রাণবন্ত আয়োজন হয়ে ওঠে। আর এই ভর্তা উৎসবকে কেন্দ্র করে ফিরিন্দা গ্রামের পোড়াবাড়ি সেজেছিল ভিন্ন রকম এক সাজে।

যেখানে ঈদের খাবারের তালিকায় সাধারণত মাংস, পোলাও কিংবা ভারি খাবারের প্রাধান্য থাকে, সেখানে ভর্তাকে কেন্দ্র করে এমন বিশাল আয়োজন ছিল সত্যিই ব্যতিক্রম। এক-দুই ধরনের নয়, বরং প্রায় অর্ধশতাধিক ভর্তার সমাহার সাজানো হয় সারিবদ্ধ টেবিলে- যা দর্শনার্থীদের কাছে ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

আলু, বেগুন, ইলিশ, শুঁটকি, সিম, ধুন্দুল, কচুর মুখি, পটল, পুঁইশাক, মুগ ডাল, বাঁধাকপি, পেঁপে-সরিষা, কচু, কাঁঠাল বিচি, লাল মরিচ, কাঁচামরিচ, ঢেঁড়স, বরবটি, বাদাম, রসুন, ডিম, লাউ পাতা, মসুর ডাল, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, কালোজিরা, তিল, তিসি, ধনিয়াপাতা, করলা, কাঁচকলা, পেঁয়াজ, চিংড়ি, শিং, শোল, টাকি-এমন নানা উপাদানের ভর্তা যেন গ্রামীণ রান্নার ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রদর্শনী হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় খুদের ভাত, যা উৎসবের স্বাদকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

অর্ধশতাধিক পদের ভর্তার ঘ্রাণে ঈদের ভিন্ন আনন্দ

ফিরিন্দা ও সানাইয়া যুব সমাজের উদ্যোগে, ‘দু’নয়ন কল্যাণ ট্রাস্ট’ ও ‘দু’নয়ন স্পোর্টিং ক্লাব’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসব শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি, আবেগ আর সামাজিক বন্ধনের এক মিলনমেলা।

উপজেলার বোয়ালী গ্রাম থেকে আসা দর্শনার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমন আয়োজন আগে দেখিনি। ছোটবেলার গ্রামের স্বাদ যেন আবার ফিরে পেলাম।

অন্যদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনশুরপুর থেকে আসা মো. মেহেদী হাসান জানান, ঈদের আনন্দকে এই আয়োজন ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

অর্ধশতাধিক পদের ভর্তার ঘ্রাণে ঈদের ভিন্ন আনন্দ

উৎসবের উদ্যোক্তা খায়রুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ভর্তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা।

স্থানীয় ইব্রাহিম মিয়া ও মাহবুব হোসেন বাবলু বলেন, এ ধরনের আয়োজন মানুষকে একত্রিত করে ও সম্পর্ক গড়ে তোলে- যা বর্তমান সময়ে খুবই প্রয়োজন।

সমাজসেবক মোহাম্মদ নাজমুল হাই মামুনের ভাষায়, এটি শুধু খাবারের উৎসব নয়, বরং আমাদের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতিচ্ছবি।

আব্দুর রহমান আরমান/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।