তনুর পরিবারকে সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তের স্বার্থে তনুর বাবা-মা ও ভাইসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ঢাকাস্থ সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে সিআইডি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল বলে তনুর ছোট ভাই রোবেল ঢাকা থেকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের ২০ মাস পূর্ণ হয় গত সোমবার। ওই দিনই সিআইডি থেকে তনুর বাবা-মাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির পৃথকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার সিআইডি কার্যালয় থেকে মুঠোফোনে তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রোবেল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে আমার চাচাতো বোন লাইজু জাহান, পরে পর্যায়ক্রমে আমি (রোবেল), চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেন, বাবা ইয়ার হোসেন এবং সর্বশেষ আমার মা আনোয়ারা বেগম সিআইডি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন।

এ সময় ওই কক্ষে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আখন্দ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদসহ সিআইডির একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তরাা উপস্থিত ছিলেন।

রোবেল আরও বলেন, সিআইডি কর্মকর্তারা তাদের নিকট আপুর (তনু) ব্যক্তিগত কিছু বিষয়, সেনানিবাসের ভেতর সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে। এসব তথ্য সিআইডিকে আমরা আগেও দিয়েছি।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, সিআইডি বার বার একই কথা বলছে ধৈর্য্য ধরতে, ধৈর্য্য তো ২০ মাস ধরে আছি, কিন্তু কোনো ফল তো পাচ্ছি না। তবুও আশায় বুক বেঁধে ঢাকায় ছুটে এসেছি। সিআইডি আজও আমাদের ন্যায় বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

এর আগে গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা ও কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন কুমিল্লা সিআইডি। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করে প্রতিবেদন দেয়ায় ঘটনার রহস্য উৎঘাটনের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।