কারাগারে সন্তান জন্ম দিলেন সেই মা
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে হত্যা মামলার আসামি সুমাইয়া (২০) সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এ খবর শোনার পরপরই জেলা কারাগারের বিভিন্ন বন্দিদের মধ্যে মিষ্টি মুখ করা হয়। নবজাতকের দেখাশোনা করছেন নারী কারারক্ষীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সিজারিয়ানের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন ওই মা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফরিদ উদ্দিন রুবেল জানান, বেলা ১১টার দিকে প্রসব বেদনা উঠে সুমাইয়ার। পরে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে সিজার করা হয়। এ সময় তিনি এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি আরও জানান, জেলা সমাজ সেবা অধিদফতর ও জেলা কারাগার সুমাইয়ার সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও ওষুধ বাবদ খরচ বহন করে।
জানা গেছে, মা সুমাইয়া তার স্বামী আরিফ হোসেনের প্রথম স্ত্রীর ছেলে মো. ইয়াসিন (৭) হত্যা মামলার একমাত্র আসামি। ৬ মাস আগে স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সুমাইয়া।
পরে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় শিশু ইয়াসিন হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সৎ মা সুমাইয়া। গ্রেফতারের সময় সুমাইয়া ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
এদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার কারাবন্দি অবস্থায় সন্তান জন্ম হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন স্বামী সেনাসদস্য আরিফ হোসেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান হওয়ার সুখবরটি তাকে দিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। এরপরই তিনি সন্তানের মুখ দেখার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসেন।
তিনি আরও জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ১ বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। প্রথম স্ত্রীর ঘরে ইয়াসিন নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এরপর সুমাইয়াকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আরিফ। সুমাইয়া ও আরিফ হোসেনের বাড়ি জেলার সিরাজদীখান উপজেলার বয়রাগদি গ্রামে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসে জেলার সিরাজদীখানের বয়রাগাদি গ্রামে স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে ইয়াসিন হত্যাকাণ্ড ঘটে। ইয়াসিনকে হত্যার পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়া। পরবর্তীতে ইয়াসিনের বাবা আরিফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন সুমাইয়া।
ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এএম/জেআইএম