বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ‘যশোর মুক্ত দিবস’ উদযাপিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ এএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭

যশোরে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘যশোর মুক্ত দিবস’। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভার মাঠ ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে (যেখানে বক্তব্য রেখেছিলেন তৎকালীণ প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ) যশোর মুক্ত দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

টাউন হল মাঠের শতাব্দী বটমূলে রওশন আলী মঞ্চে সকাল সাড়ে ৯টায় হাজারো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর বাদ্যের তালে তালে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় পতাকা শোভিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্তলগ্নে মুক্তিপাগল দামাল ছেলেদের অদম্য সাহস আর বীরত্ব গাঁথায় বিজয়ের আগেই যশোর জেলা বর্বর পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। যশোর প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা হিসেবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এখন সময় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার। উন্নত মানুষ হয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়ায় সকলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, প্রবীণ শিক্ষক তারাপদ দাস, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. রবিউল আলম, একাত্তরের বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর কমান্ডার আলী হোসেন মনি, মুক্তিযোদ্ধা অশোক রায়, রাজেক আহমেদ, আবুল হোসেন, এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, মোহাম্মদ আলী স্বপন, আফজাল হোসেন দোদুল, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলুসহ যশোরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীবৃন্দ এবং বিভিন্ন বয়সের সাধারণ জনগণ অংশ নেন।

উদ্বোধনের পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মুজিব সড়ক, দড়াটানা হয়ে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র সড়ক হয়ে চৌরাস্তা রবীন্দ্রনাথ সড়ক হয়ে বিজয় স্তম্ভে এসে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। শোভাযাত্রা শুরুর আগে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের শিল্পীরা পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী গণসঙ্গীত।

উল্লেখ্য, বাঙালি জাতির জীবনে মহিমান্বিত এক গৌরবোজ্জ্বল দিন ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর শত্রুমুক্ত হয়। সেদিনই মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মধ্যে প্রথম বিজয় সূচিত হয়। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে যশোরের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জেলাকে প্রথম শত্রুমুক্ত করে। বয়ে আনেন যশোরবাসীর জন্য বিরল এক সম্মান।

মিলন রহমান/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।