প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চ নির্মাণের গাছ কাটতে গিয়ে পঙ্গু হয়ে বিছানায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরির জন্য গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন ধীরেন চন্দ্র রায়। তার কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। এখন ওঠে দাঁড়াতে পারেন না। হাঁটাচলাও করতে পারেন না। সব সময় শুয়ে থাকতে হয় তাকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা ক্ষতচিহ্ন ও ঘা বাড়ছে তার।

অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না এ দরিদ্র দিনমজুর। গত সাড়ে ৩ মাসে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী থাকায় মানবেতর জীবন কাটছে ৫ সদস্যের ধীরেন পরিবারের।

ধীরেনের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেদিন গাছের ডাল কাটতে গিয়ে তিনি পঙ্গু হন। অথচ তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার মীরেরবাড়ি গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর ধীরেন। গত ২০ আগস্ট তার বাড়ির পাশের পাঙ্গা স্কুলমাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চ তৈরি করার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাছের ডাল কাটার জন্য ধীরেনসহ ৫ জনকে নিয়োগ দেন। তাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন স’মিল মালিক সুরুজ্জামান নেটু। ডাল কাটার একপর্যায়ে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ধীরেন। তাকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, তার কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসা ও হুইল চেয়ার নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ১৪ দিন সেখানে থাকার পর অর্থাভাবে আর চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি ফিরে এখন কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার কথা হয় ধীরেনের স্ত্রী সুমিত্রা রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, ৭ শতকের বাড়িভিটা ছাড়া তাদের স্থাবর কোনো সম্পত্তি নেই। দুটি গরু ছিল তাও ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মিটিয়েছেন। এখন আর কোনো উপায় নেই। তার স্কুলপড়ুয়া দু’টি সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়িসহ ৫ সদস্যের সংসারে এখন দারুণ অভাব নেমে এসেছে।

সুমিত্রা বলেন, ইউএনও স্যার মেয়ের ফরম ফিলাপের জন্য কিছু টাকা দিয়েছেন। আর কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। কীভাবে সংসার চলবে বুঝতি না।

ধীরেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমি আজ পঙ্গু। তার একটু সহানুভূতি পেলে আমি ওঠে দাঁড়াতে পারতাম। আমি ছাড়া পরিবারে আয়-রোজগার করবার কেউ নেই।

এ নিয়ে পাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আহসান বলেন, সেদিন ইউএনও সাহেব মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। তার নির্দেশে ধীরেনকে ডাকা হয়। কাজ করতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ধীরেনের চিকিৎসার ব্যাপারে সহায়তার বিষয়টি আমার জানা আছে। ধীরেনকে চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে এখন তার বর্তমান অবস্থা কী তা আমার জানা নেই।

এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।