লালমনিরহাটে হুমকিতে বাঁধ ও রাবার ড্যাম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বোমা মেশিনের মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, রাবার ড্যামসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজ প্রকাশ্যে চললেও স্থানীয় প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা জমগ্রাম এলাকায় অবৈধ বোমা মেশিন বসিয়ে সানিয়াজান নদী থেকে উত্তোলন হচ্ছে বালি ও পাথর। হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান নদীতে ব্রিজের ৫০ মিটার দূরেই বসানো হয়েছে বোমা মেশিন। সেই মেশিনের মাধ্যমে অনেক গভীর থেকে উঠে আসছে বালুর পাশাপাশি পাথর।
এছাড়া সানিয়াজান ব্রিজের প্রায় ২০০ মিটার ভাটিতে রয়েছে একটি রাবার ড্যাম। স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে এজিইডির অধীন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে সানিয়াজান নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে ওই রাবার ড্যামটি। ওই রাবার ড্যাম ঘেষে একটু ভাটিতে বসানো হয়েছে ২টি বোমা মেশিন। তবে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মেশিন দুটি বন্ধ করে দ্রুত গা ঢাকা দেয় মেশিন মালিকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেশিন ২টির মালিক একজন শেখ সুন্দর গ্রামের আফজাল হোসেন অপরজন পশ্চিম সারডুবি গ্রামের জামাত আলী। এসব মেশিন দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়াও সুযোগ পেলে তারা পাথর উত্তোলন করতেও ছাড়ছে না।
এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কয়েকটি গ্রামকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে পানি উন্নয়ন র্বোডের আওতায় তিস্তার তীরে ব্লক পেসিং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাঁধ। কিন্তু গত বন্যায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাঁধের পাশেই বসানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘বোমা’ মেশিন। সেই মেশিন দিয়ে অনেক গভীর থেকে বালুর পাশাপাশি পাথর তুলে বিক্রি করা হচ্ছে।
দালালপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক (৪৫) বলেন, এখান থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলনের ফলে আমার কয়েক একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কাজ হয়নি।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার রাবার ড্যাম আর ব্রিজের ৭০০ ফিট দূর থেকে বালু তোলার বিষয়টি জানেন বলে স্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সংযোগটি কেটে দেন।
রবিউল হাসান/এফএ/পিআর