বাঁচানো গেল না যুবরাজকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

টানা এক মাসেরও অধিক সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর কুমিল্লা চিড়িয়াখানার বহুল আলোচিত রুগ্ন সিংহ যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে খাঁচার ভেতরেই সিংহটির মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক। তিনি জানান, তিনজন পশু চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবে।

প্রায় ১৮ বছর বয়সী সিংহ যুবরাজের জীর্ণশীর্ণ ছবি গত নভেম্বর মাসে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট মহলে। ঢাকা থেকে আসে পশু বিশেষজ্ঞ দল। গত ৩ নভেম্বর রাতে যুবরাজের খাঁচার চারপাশে পর্দা টানিয়ে দিয়ে প্রদর্শন বন্ধ রাখা হয়। এর পর থেকে সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল যুবরাজ।

২০০৪ সালে ৫ বছর বয়সে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছিল এ সিংহটি। দীর্ঘ দিন অবহেলা অনাদরে রুগ্ন শরীর নিয়ে কোনো মতে দর্শনার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারলেও গত এক বছর যাবৎ শুয়ে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল এ সিংহটি।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক জানান, যুবরাজ সিংহটি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকররা আগেই বলেছিল যুবরাজের আয়ু শেষ। চিকিৎসকদের কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে খাঁচা থেকে মৃত যুবরাজকে সরিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশে ১০.১৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা। বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় ৯টি বানর, বন মোরগ ১টি, অজগর সাপ ১টি, হরিন ২টি এবং ২টি ঘোড়া রয়েছে।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।