জেগে দেখি আমার একটি পা নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০২:১৫ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:৩৩ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
জেগে দেখি আমার একটি পা নেই

১৯৭১ সালে ৪ ডিসেম্বর ভারতীয় বাহিনী (কালো ফোর্স) এর সঙ্গে গুলির বাক্স কাঁধে নিয়ে বাউরা থেকে পায়ে হেঁটে বড়খাতা যাচ্ছিলাম। এমন সময় ফকিরপাড়া এলাকায় হানাদার বাহিনীর পুতে রাখা বোমার আঘাতে আমার ডান পাটি ছিড়ে যায়। এরপর আমি কিছুই বলতে পারি না। জেগে দেখি আমার একটি পা নেই। ভারতের জলপাইগুড়ি হাসপাতালে বেডে একা একা অনেক কেঁদেছি।

এভাবে কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বুড়াসারডুবী গ্রামের পঙ্গু আজিজুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর ধরে একটি পা হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। জায়গা জমি নেই। কোনো কাজও করতে পারি না। স্ত্রীর দিনমুজরির টাকা দিয়ে সংসার চলছে। পা হারার পরও আমি অনেকের হাতে পায়ে ধরেছি আমার নামটি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় উঠানোর জন্য কিন্তু আজও আমার নামটি মুক্তিযোদ্ধাদের খাতায় উঠেনি। বর্তমানে আমাকে আর আমার স্ত্রীকে দেখার কেউ নেই।

freedom-fighter

জানা গেছে, আজিজুল ইসলাম (৬৫) একটি পা হারিয়ে স্বাধীনতার ৪৭ বছর ধরে লাঠির ওপর ভর করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ১৯৭১ সালে ৪ ডিসেম্বর বড়খাতা থেকে পাক হানাদার বাহিনী পালাতে শুরু করেছে এমন খবর শুনে আজিজুল ইসলামসহ কজন মিলে বড়খাতার কাছে যেতেই ভারতীয় বাহিনী (কালো ফোর্স) তাদের ধরে বাউরা বাজারের দিকে নিয়ে আসে। পরে তাদের কাঁধে গুলির বাক্স তুলে দিয়ে বড়খাতার দিকে রওনা করেন ভারতীয় বাহিনী।

বাউরা পার হয়ে পশ্চিম ফকিরপাড়া গ্রামে আসতেই পাক হানাদার বাহিনীর পুতে রাখা বোমার আঘাতে আজিজুল ইসলামের ডান পাটি উড়িয়ে যায়। পরে তিন মাস ভারতের জলপাইগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে আজিজুল ইসলাম প্যারালাইসিস রোগে ভুগচ্ছেন। তার স্ত্রীসহ ১ ছেলে ১ মেয়ে। ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫) দিনমুজুরী করে তার সংসার চালান।

freedom-fighter

তার স্ত্রী নুর নেছা বলেন, অসুস্থ স্বামীকে কাঁধে নিয়ে কয়েক বছর ধরে চলছি। অনেক কষ্টে একটি ছাগল বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে স্বামীর নামে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড করছি। সেই টাকা তার ওষুধ খেয়েই শেষ হয়।

বড়খাতা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অছিয়ার রহমান বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে পর তার কথা শুনেছি। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা এতটা কিছু ব্যবস্থা করবো।

হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক জানান, তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তার ভাতার ব্যবস্থা করে দিতাম।

রবিউল হাসান/এমএএস/জেআইএম