বিল কম দেয়ায় প্রকৌশলীকে পেটালেন দুই নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:৪৯ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর শিবপুরে ঠিকাদারি কাজের চাহিদা মাফিক বিল না দেয়ার অভিযোগে এলজিডির এক প্রকৌশলীকে পেটালেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই নেতা।

বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ওই প্রকৌশলীর নাম কাজী মো. লুৎফর রহমান। তিনি উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী।

অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন- শিবপুর শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোকন ভূঞা ও উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য আমজাদ হোসেন ওরফে খয়ার আমজাদ।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার সৈয়দনগরের একটি সড়কের সংস্কার কাজ করে মেসার্স শান্তা এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার মালিক শিবপুর শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোকন ভূঞা। তিনি কাজটি দুর্জয় এন্টার প্রাইজকে দিয়ে করিয়েছেন। যার মালিক বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন ওরফে খয়ার আমজাদ।

গত ১৯ ডিসেম্বর কাজের বিল অনুমোদন করেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু বুধবার বিকেলে কাজের বিল দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ নেতা খোকন ভূঞা ও তার ঠিকাদারি অংশীদার খয়ার আমজাদ।

পরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মো. লুৎফর রহমানকে ডেকে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে নিয়ে যান তারা। এ সময় বিল কম দেয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, বিধি মোতাবেক বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উত্তেজিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা খোকন ভূঞা ও বিএনপি নেতা খয়ার আমজাদ মিলে প্রকৌশলী লুৎফর রহমানকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

মারধরের শিকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, তাদের দাবি অযৌক্তিক। রাস্তায় যতটুকু কাজ হয়েছে বিধি অনুযায়ী তারই বিল হয়েছে। কিন্তু তারা এতে উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে আমি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে শিবপুর শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোকন ভূঞা বলেন, প্রকল্পটি ছিল ৭ লাখ টাকার। কিন্তু কাজ কম হওয়ার অজুহাতে সাড়ে ৬ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে খোকনের আপত্তি ছিল। আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছিলাম। কিন্তু দুই পক্ষ বাক-বিতণ্ডায় জড়ালে তাদের দুই কক্ষে দিয়ে বেরিয়ে আসি। এ সময় প্রকৌশলীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

সঞ্জিত সাহা/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :