৬ নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলো ছাত্রলীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০১:৪৪ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

ছয় নারীকে ধর্ষণ ও অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে শরীয়তপুরের ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদার।

ভুক্তভোগী এক গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বুধবার দুপুরে তাকে শরীয়তপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মুজাহিদুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। শরীয়তপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ১ মাস ১৫ দিন পলাতক থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪দিকে জেলার গোসাইরহাট উপজেলার সাইক্কা ব্রিজের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থান্দার খায়রুল হাসানসহ পুলিশের একটি দল।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার ছয় নারীকে ধর্ষণ ও অশ্লীল ভিডিও করেন। ভেদরগঞ্জ ইউনিয়নের নারায়ণপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি গ্রামের আমিনুল হক মাদবরের ছেলে রাজিব মাদবরের ফেসবুক থেকে এসব ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের (বহিষ্কৃত) সাধারণ সম্পাদক আরিফ হাওলাদার গোপনে ছয় নারীর আপত্তিকর ছবি ভিডিও করে এবং ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের ধর্ষণ করে। আবার এসব ধর্ষণের চিত্র গোপনে মোবাইলে ধারণ করে।

লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের শিকার নারীরা এসব কথা কাউকে না বললেও সম্প্রতি ওসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে গৃহবধূ ও কলেজছাত্রীসহ ৬ নারীর সঙ্গে আরিফকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়।

ভুক্তভোগী ছয় নারীর মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেলেও দু’জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় ১০ নভেম্বর সংগঠন থেকে আরিফকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ গত ১১ নভেম্বর ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, আরিফ হাওলাদার তার স্বামীর আত্মীয় হওয়ায় এবং কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় মাঝেমধ্যে তার শ্বশুরবাড়িতে আসতেন।

গত ১ মার্চ রাতে আরিফ ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে জড়িয়ে ধরে আপত্তিকর ভিডিও করে। একপর্যায়ে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে আরিফ।

মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :