শরীয়তপুরে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০২টি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৪:৪০ এএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

শরীয়তপুরের ৬ উপজেলার ১০২টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে শিশুদের পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। তারপরও এসব বিদ্যালয়গুলো সংস্কারে বা পুনঃনির্মাণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরে এসব বিদ্যালয়ের দৃশ্য একটি বা দুইটি নয়, ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই এমন ঝুঁকিপূর্ণ। এদের মধ্যে নড়িয়া উপজেলায় ৩৭টি, জাজিরা উপজেলায় ৫৯টি, সদর উপজেলায় ৪টি, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১টি ও ডামুড্যা উপজেলায় ১টি রয়েছে।

এসব বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে সুড়কি খসে পড়ছে, বারান্দার গ্রিল বেঁকে গেছে, ছাদ থেকে বের হয়ে গেছে রড, কোনটিতে আবার দেখা দিয়েছে ফাটল। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বিদ্যালয় ভবন। ব্যবহারের অনুপযোগী এসব ভবনের কক্ষেই পাঠদান চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কিছু কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবার অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

jagonews24

এছাড়া কিছু কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় টিন শেডের হলেও মেয়াদ পার হয়েছে অনেক আগে। সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের অভাবে টিনশেডের কক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে তা এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। একটু ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীসহ তাদের বই-পুস্তক। সেইসঙ্গে একটু ঝড়ো-হাওয়াতেই উড়ে যেতে পারে স্কুল ঘরগুলো।

৫৭ নং ধানুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুর রহমান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে ভবনের এই অবস্থা দেখে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

jagonews24

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটির অবস্থা জানিয়ে জেলা প্রসাশক বরাবর গত ৪ মে একটি অবহিতকরণপত্র দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি। অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান এবং বলেন বাইরে ক্লাস নিতে। তাই শিক্ষার্থীদের পুরনো একটি টিনসেড ভবনে আপাতত ক্লাস নিচ্ছি।

এদিকে এসব সমস্যা অকপটেই স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার ৬ উপজেলার ১০২টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর বরাবর পাঠিয়েছি। বিদ্যালয়ের ভবনগুলো পুনঃনির্মাণ হলে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরে আসার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।

মো. ছগির হোসেন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।