হত্যায় বছর শুরু ছাত্রদলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ এএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮
হত্যায় বছর শুরু ছাত্রদলের

সিলেটে দলীয় নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে নতুন বছর শুরু করল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল। বছরের প্রথমদিনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিমুকে খুন করা হয়েছে।

২০১৮ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনী বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার হবে। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যখন দল গোছানোর তোড়জোড় চলছে ঠিক তখন সিলেটে ছাত্রদলের মধ্যে কোন্দল আরও বাড়ছে। সোমবার বিকেলে নগরের কোর্ট পয়েন্টে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে ছুরিকাঘাতে আবুল হাসনাত শিমুকে খুন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। তবে ক্ষমতায় না থাকলেও সিলেটে দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের বিরোধ থেমে নেই। নতুন নতুন গ্রুপ উপগ্রুপ তৈরি হচ্ছে সিলেট ছাত্রদলে। সম্প্রতি ছাত্রদলের সকল স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সিলেটে পালিত হয়েছে অসংখ্য উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে।

সোমবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালিত হয় অন্তত এক ডজন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে।
নতুন নতুন গ্রুপ উপগ্রুপে বিভক্তির কারণে ছাত্রদলের কর্মসূচিগুলোতে আরও একাধিকবার সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেসবে বড় কোনো অঘটন না ঘটলেও সোমবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় বিভক্তি চরম পরিণতি ঘটে খুনোখুনির মধ্য দিয়ে।

শোভাযাত্রায় প্রকাশ্যে চুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আবুল হাসনাত শিমুকে। শিমু সিলেট নগরের শাহি ঈদগাহ এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে। ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত শিমুর পাঁচবছর বয়সী জান্নাত নামের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি ছাত্রদলের কাজী মেরাজ গ্রুপের নেতা বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, দলের ঐক্য বিনষ্টের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আহমদ চৌধুরী ফয়েজ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ঘটনা স্থলে সিসিকের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেই ক্যামের ফুটেজ দেখে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে। সেখানে যদি দলের কেউ থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, ছাত্রদলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে শিমু খুন হয়েছেন- প্রাথমিক তদন্ত এমনটিই জানা যাচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে এখনও আটক করা যায়নি। কেউ থানায় মামলা করতে আসেন নি। তবে পুলিশ হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা করছে।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমএস