কালের সাক্ষী হয়ে যাবে হালচাষ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্য কাঠের লাঙল। কাঠের লাঙলে বলদ দিয়ে করা হতো হালচাষ। চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ হিসেবে কাঠের লাঙল ছিল অপরিহার্য।

তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার কাঠের লাঙলে বলদ দিয়ে হালচাষ। এক সময়ে লাঙল ছাড়া চাষাবাদের কথা চিন্তাই করা যেত না। আগে কাঠের লাঙল দিয়ে চাষাবাদ করতে গেলেও এখন আর খুব বেশি চোখে পড়ে না।

হাজার বছরের ঐতিহ্য চাষাবাদের বহুল ব্যবহৃত কাঠের হাতল ও লোহার ফাল বিশিষ্ট লাঙল আজ বিলুপ্তপ্রায়। আধুনিক যুগে চাষাবাদের যান্ত্রিক উপকরণ আবিষ্কারের ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে জোয়াল, মই ও হালের বলদ।

এসবের ব্যবহার করে স্বল্প আয়ের কৃষিজীবী মানুষরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমানে বিজ্ঞান ও আধুনিকতার উৎকর্ষের কৃষিকাজে ঠাঁই করে নিয়েছে পাওয়ার ট্রলার ও ট্রাক্টর।

কাকডাকা ভোরে কৃষক গরু, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তো। এখন আর চোঁখে পড়ে না সেসব। জমির মালিকরাও এখন অল্প সময়ে অধিক জমি চাষাবাদের জন্য বেছে নেয় আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা তৈরি পাওয়ার ট্রলার। ফলে অতীতে যারা এসব পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তারা এখন বেছে দিয়েছেন ভিন্ন পেশা।

গরু দিয়ে হাল চাষকারী পাটকেলঘাটার চোমরখালী এলাকার নজরুল ইসলাম নজু বলেন, ছোটবেলায় হাল চাষের কাজ করতাম। বাড়িতে হাল চাষের বলদ গরু ছিল ২-৩ জোড়া। চাষের জন্য দরকার হতো একজোড়া বলদ। আর লাগতো কাঠ লোহার তৈরি লাঙল, জোয়াল, মই, লরি (বাঁশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি), গরুর মুখে টোনা ইত্যাদি। গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো। অনেক সময় গরুর গোবর জমিতে পড়ত, এতে করে জমিতে অনেক জৈব সার হতো। খেতে ফলন ভালো হতো। কিন্তু এসব এখন অতীত।

জেলার খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে এখন সবখানেই। লাঙল দিয়ে জমি চাষাবাদ করতে অনেকটা সময় লাগতো। আর এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে অনেক কম সময়ে অধিক জমি চাষ করা যায়। যার কারণে জমির মালিকরা লাঙল দিয়ে জমি চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। তবে এটা গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য। যা কালের বিবর্তনে আগামীতে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :