ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

রাজশাহীতে আমজাদ হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দাবিতে বুধবার দুপুরে ওই যুবককে তুলে নিয়ে যায় রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল হাসান নাঈম ও তার অনুসারীরা। পরে তাকে রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ আহত আমজাদকে নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে উদ্ধার করে। এসময় জড়িত সন্দেহে সোহাগ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

আমজাদ রাজশাহীর মোহনপুরের গোছাবাজার গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। পড়াশোনা শেষে তিনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের ব্যবসা করেন। এনিয়ে রাতেই নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন আমজাদ।

আমজাদ হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে নগরীর শিরোইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মী রকি তাকে সাহেব বাজারে ডাকেন। রকির বাড়িও মোহনপুরের গোছাবাজার। তিনি তার প্রতিবেশী। এরপর তিনি সাহেব বাজার গেলে ছাত্রলীগ নেতা নাঈমের নেতৃত্বে রকি, আশরাফুল, শরিফুল, রায়হান ও রতনসহ কয়েকজন কথা আছে বলে রাজশাহী সিটি কলেজ হোস্টেলের দোতলায় নিয়ে যায়।

এ সময় তাকে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন দিয়ে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নাঈম। প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার এবং পরে তাকে ফেরতের সময় বাকি টাকা দেয়ার কথা হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর আমজাদের স্ত্রী জেসমিন খাতুন পুলিশে অভিযোগ করেন। এরপর আমজাদের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমজাদকে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় সোহাগ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতা নাঈম। তিনি বলেন, যে সময় এ ঘটনার কথা বলা হচ্ছে ওই সময় আমরা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এ অভিযোগ পরিকল্পিত। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলেও দাবি করেন নাঈম।

এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম বাদশা বলেন, এ ঘটনায় রাতেই আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে ছয় জনকে। রাতেই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা যায়নি।

তিনি আরো বলেন, মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে আটক সোহাগকে। তাকে আদালতে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া জবানবন্দি নিতে ঘটনার স্বীকার আমজাদকেও আদালতে নেয়া হবে বলে জানান সেলিম বাদশা।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :