অপরাধ গাছ খাওয়া, শাস্তি জবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮

বরগুনা পৌরসভার সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য রোপণকৃত গাছ নষ্ট করার অপরাধে একটি দুগ্ধজাত ছাগলকে জবাই করে পৌর কর্মচারীরা ভুরিভোজ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাগলটির দুইটি দুগ্ধপোষ্য দেড় মাসের বাচ্চা রয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বরগুনা পৌরসভার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার দুপুরে গাছ নষ্ট করায় পৌর কর্মচারীরা ধরে নিয়ে ছাগলটি বেঁধে রাখেন। পরে মেয়রের নির্দেশে সন্ধ্যার পর জবাই করে পৌর ভবনের ভেতরেই ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য দুইজন পৌর কাউন্সিলরকে ইরানি বেগমের বাসায় দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, পৌর শহরের প্রধান সড়ক বিভাজনে নদীবন্দর এলাকায় সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য রোপণকৃত গাছ খাওয়ায় পৌরভবন সংলগ্ন বস্তি এলাকার বাসিন্দা ইরানি বেগমের (৪৫) ছাগলটি পৌরসভার এমএলএসএস মামুন ও তার সহযোগী শাহীন খান ধরে পৌরভবনের নিচতলায় বেঁধে রাখেন।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর খবর পেয়ে ইরানি বেগম ছাগলটি উদ্ধার করতে পৌরভবনে গেলে মামুন নামের ওই কর্মচারী জানান, মেয়রের নির্দেশে তারা ছাগলটি ধরে নিয়ে এসেছেন। ইরানি মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে যেতে বাধা দেয়া হয়।

ইরানি বেগম বলেন, সম্বল বলতে দুটি ছাগল ছিল। একটি ছাগল দেড় মাস আগে দুটি বাচ্চা দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সেই ছাগলটি পৌর শহরের সড়কে রোপণ করা গাছের চারা খেয়ে ফেলায় বরগুনা পৌরসভার কর্মচারিরা ছাগলটিকে ধরে জবাই করে খেয়ে ফেলেছেন। মা ছাড়া দুগ্ধপোষ্য দুটি বাচ্চা কিভাবে বাঁচবে সেই চিন্তায় দিশেহারা।

পৌর কর্মচারী শাহীন খান বলেন, আমি কোনো ছাগল জবাই করিনি, তবে কাল সন্ধ্যায় পৌর ভবনে ছাগল জবাই করে খাওয়া দাওয়া হয়েছে।

বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৭নং ওয়াডের কাউন্সিলর রইসুল আলম রিপন বলেন, এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় সাংসদ বিষয়টি সমাধানের জন্য মেয়রকে নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত তিনি এ ঘটনার কোনো সমাধান দেননি।

এ বিষয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ছাগল জবাই করার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া পৌর শহরের সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য রোপণ করা গাছ রক্ষার জন্য মাইকিং করেছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার করব।

সাইফ আমীন/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :