কথা রাখলেন কমিশনার

উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল যশোর
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৪:৪৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
কথা রাখলেন কমিশনার

স্বাধীনতার পর থেকে চলছে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে আমদানি-রফতানি। সহজ, দ্রুত শুল্কায়ন ও আমদানি ভোগান্তি নিরসনে নথির পরিবর্তে ফোল্ডার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিল ৩০ বছর ধরে বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবসায়ীরা।

অনেক কমিশনার কথা দিয়েছিলেন দাবি বাস্তবায়নে। কেউ কথা রাখেননি। অবশেষে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের বর্তমান কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী তা বাস্তবায়ন করেছেন। কথাও রেখেছেন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য ও জনবান্ধব শুল্কায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেন।

পরে এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন প্রবর্তিত পদ্ধতি সম্পর্কে শুল্কায়ন গ্রুপের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের ধারণা দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৬ জানুয়ারি একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। চলমান সংস্কার ও উদ্ভাবনা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সহায়তা চেয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টম হাউসে প্রথমবারের মতো নথির পরিবর্তে ফোল্ডার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। দ্রুত ও সহজে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

আগে আমদানি চালান নথির মাধ্যমে শুল্কায়ন হতো। এতে শুল্কায়নে বেশি সময় লেগে যেত এবং পণ্য খালাসে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হতো। রাজস্ব কম আহরণের পাশাপাশি অসন্তোষ ছিল ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে। ফোল্ডার ব্যবস্থা চালুর ফলে নথির পাশাপাশি প্রযোজ্য ও অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে ফোল্ডারের মাধ্যমে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ব্যবস্থায় আমদানি-রফতানি চালান শুল্কায়নের সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার সময় হ্রাসসহ কাস্টম হাউসের সামগ্রিক রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজস্ব আহরণের গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্য সহায়তাকরণ, অপবাণিজ্য প্রতিরোধ ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গত এক মাসে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, গত ৩০ বছরে যা বাস্তবায়ন হয়নি এখন তা হচ্ছে। ৩০ বছর ধরে ব্যবসায়ীদের এমন পদ্ধতি চালুর দাবি ছিল। এতদিন ফাইল ব্যবস্থা থাকার কারণে আমদানি-রফতানিকারকদের একটি ফাইল কমিশনারের টেবিলে আসতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যেত। এখন ফোল্ডার ব্যবস্থা চালুর ফলে কমিশনারের টেবিল পর্যন্ত একটি ফাইল আসতে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের কারণে সময়ক্ষেপণ কমবে, রাজস্ব বাড়বে। এর মাধ্যমে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ববান্ধব, জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতি চালুর ফলে ক্লিয়ারেন্স, সময় কমবে, রাজস্ব বাড়বে। এছাড়া সরকারি, আধা-সরকারি, বহুজাতিক কোম্পানিসহ স্বচ্ছ আমদানিকারকরা এ পদ্ধতি চালুর ফলে বেশি সুফল পাবেন।

মো. জামাল হোসেন/এএম/আরআইপি