আ.লীগ নেতার শেল্টারে বেপরোয়া বিএনপি নেতা
কক্সবাজারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত ও বর্তমান বিএনপি নেতা পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফাত উল্লাহ ওয়াসিম। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি পেকুয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করে তুলেছেন। আর নেপথ্যে থেকে তার সমস্ত অপকর্মের শেল্টার দিচ্ছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম। এমনটি অভিযোগ দলের ত্যাগী নেতাদের।
আর সুচতুর ওয়াসিম মুজিব-জাফরকে দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছে। অন্যদিকে স্বশস্ত্র হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিধন করছে বিএনপি-জামায়াতের অনুসারীরা। বিএনপি দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানের করা আবেদনে এবং সম্প্রতি জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্যেই এসব তথ্যের প্রমাণ মিলেছে।
পেকুয়ার মগনামার স্থানীয়রা জানান, এস আলম গ্রুপ ও সাবমেরিন স্টেশনের জন্য লিজ নেয়া জমির একক নিয়ন্ত্রণ নিতেই শক্তি প্রদর্শন করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাফায়েত আজিজ রাজু ও ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিম। তাদের নেপথ্যে থেকে সব ধরনের যোগান দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম।
এমনকি এস আলম গ্রুপ ও সাবমেরিন কেবলের জমি দেখভাল করার জন্য ওয়াশিমের করা আবেদনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের জোর সুপারিশ রয়েছে। এছাড়া রাজু-ওয়াসিমের আবেদনের পক্ষ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে স্বশরীরের দেন-দরবার করেছেন মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান।
স্থানীয়দের মতে, ওয়াসিমের অপকর্মের প্রতিবাদ করতে সাহস করে মাত্র দুজন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইউনূস এবং যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর। তাই এ দু’জনকে ঠেকানোর প্রাণান্ত চেষ্টা অব্যহত রেখেছে ওয়াসিম-রাজু গ্রুপ। যার ধারাবাহিকতায় ১৩ জানুয়ারি প্রতিবাদী গ্রুপকে দূর্বল করতে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইউনুছের উপর সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে ওয়াসিম ও তার বাহিনী।
সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চেয়ারম্যান ইউনুসকে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সভায় প্রকাশ্যে সাবেক শিবির ক্যাডারের পক্ষাবলম্বন করে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার নির্ধারিত বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ইউনুছ একজন সন্ত্রাসী। জমি দখল বেদখলসহ নানা সন্ত্রাসী কাজে জড়িত। এ কারণে লবণ মাঠের দখল বেদখল নিয়ে ১৩ জানুয়ারি ইউনুছ ও তার পরিবারের উপর হামলা করা হয়েছে। জাফর আলমের এমন বক্তব্যে উপস্থিত সবাই হতবাক হন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, ওয়াসিম তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গেই গোপনে যোগাযোগ রাখেন। টাকা কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দিয়ে সরকার দলীয় অনেক সুবিধাবাধী নেতাকে তার পক্ষে রাখেন ওয়াসিম।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেন, পেকুয়া থানার পুলিশ জানত ইউনুছ চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা হবে। সেদিন দুপুরে আমি নিজে ফোন করে ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগের বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শাফায়েত আজিজ রাজু এবং মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, কোনো অপরাধের সঙ্গে আমরা জড়িত নয়। নিয়ম মেনে এস আলম গ্রুপ ও সাবমেরিনের জমি লিজ নেয়ার প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এটি পেতে কিছু নেতা সুপারিশ করেছে।
এসব বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, এস আলম গ্রুপ ও সাবমেরিন স্টেশনের অধিগ্রহণকৃত জমির লিজ ও বর্গা প্রথা এখন থেকে বন্ধ থাকবে। যেই কাজের জন্য জমি কেনা হয়েছে কিংবা অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই কাজ বাস্তবায়নে দেরি হলে জমি খালি থাকবে। সেখানে কিছু করা যাবে না।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আরআইপি