বিনামূল্যের বই বিতরণিতে ছবি তোলা বাবদ ২০ টাকা আদায়
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিনামূল্যে বই বিতরণে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক গত ২২ জানুয়ারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবার অভিযোগ দিয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫৬ জন শিক্ষার্থী আছে। গত ১ জানুয়ারি উৎসব করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়। বই বিতরণিতে প্রতিজন শিক্ষার্থীর নতুন বই হাতে নিয়ে বুকে ধরে ছবি উঠানো হয়। ছবি উঠানো, প্রিন্ট করা এবং ক্যামেরা ম্যানের খরচ বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হয়। আর টাকা উঠানোর দায়িত্ব দেয়া হয় ইয়াসমিন আরা ও ফারহানা ইয়াসমিন নামে দুই সহকারী শিক্ষককে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িয়ে পড়েন। গত পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের না জানিয়ে সরকারি বিনামূল্যের বই বিতরণে শিক্ষার্থী প্রতি ২০ টাকা আদায় করেন। আর এই অর্থ আদায়ে বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না।
স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া তামান্না খাতুনের মা সায়েমা বিবি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আসিফের মা চানবানু বলেন, বিগত বছরগুলোতে বই বিতরণের নামে কোনো টাকা নেয়া হয়নি। অথচ এই শিক্ষক এ বছর ২০ টাকা করে নিয়েছে। যা অন্যায় ও অমানবিক।
সহকারী শিক্ষিক ইয়াসমিন আরা ও ফারহানা ইয়াসমিন টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কিছু পক্ষ বিপক্ষ থাকায় এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে আমি আসার পূর্বেও শিক্ষকরা টাকা নিয়েছেন। সেই হিসেবে আমিও প্রতিজন শিক্ষার্থীর ছবি উঠানোর খরচ বাবদ ২০ টাকা করে নিয়েছি। অনেক শিক্ষার্থী টাকা দিতে পারেনি। আমি কোনো অনিয়ম করিনি। একটা স্বার্থন্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে করছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষিত জাতি গড়তে বছরের প্রথম দিন সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ ব্যবস্থা চালু করেছেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেয়ার প্রয়োজনই আসে নাই। আমাকে না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। যা খুবই অন্যায়। এটার ব্যবস্থা হওয়া দরকার।
মহাদেবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। দোষী হয়ে থাকলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আব্বাস আলী/এমএএস/আইআই