ঝুটের দড়িতে স্বাবলম্বী
অভাব অনটনের সংসারে সদস্য পাঁচজন। স্বামী বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ফেরদৌসি আকতার। এক আত্মীয়ের পরামর্শে ঝুট কাপড় থেকে দড়ি তৈরি শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গত ৬ বছর যাবৎ দড়ি তৈরি এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দড়ি তৈরির আয় দিয়ে স্বামীর ওষুধ, সংসারের যাবতীয় খরচ এবং এক ছেলে ও এক মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছেন।
শুধু ফেরদৌসি আকতার নয়, নওগাঁ সদর উপজেলার ইলশাবাড়ী গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকে দড়ি তৈরির এ পেশায় যুক্ত। নওগাঁ সদর, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার ২০-২৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার গ্রামীণ নারী এ কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
এ ঝুট কাপড় থেকে শিকা, গরু ও ছাগলের দড়ি তৈরি হয়। এছাড়া এ দড়ি মজবুত ও টেকশই বলে পানের বরজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেয়ায় লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে। তাই সরকারি সহযোগিতা ও স্বল্প সুদে ঋণের দাবি করেছেন গ্রামীণ এসব নারীরা।

প্রতিটি ঝুট কাপড়ের বস্তার ওজন ৮০-৮৫ কেজি। প্রতিকেজি ঝুট কাপড়ের দাম পড়ে ৪৫ টাকা। একটি বস্তা থেকে দড়ি তৈরি করে বিক্রির পর লাভ আসে প্রায় এক হাজার ৫০০ টাকা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে সপ্তাহে দুই বস্তা ঝুট কাপড় থেকে দড়ি তৈরি করা যায়।
সদর উপজেলার ইলশাবাড়ী গ্রামের ফেরদৌসি আকতার বলেন, প্রতি সপ্তাহে দড়ি বিক্রি করে প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। আল্লাহর রহমতে আগের তুলনায় এখন ভালোভাবে চলতে পারছি।
একই গ্রামের রেবেকা বিবি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। স্বামী কৃষি কাজ ও ভ্যান চালায়। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এ দড়ি তৈরির কাজ করি। বিভিন্ন এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ঝুট কাপড়গুলো কিনে থাকি। সরকার থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পেলে সুবিধা হতো।

নওগাঁ সদর উপজেলার ঝুট কাপড়ের পাইকারি ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে ঝুট কাপড় কিনে নিয়ে যায় নারীরা। এরপর তারা দড়ি তৈরি করে আবার আমার কাছে বিক্রি করে। এসব দড়ি বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর থেকে এসে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যায়।
নওগাঁ শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র এসব জনগণকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে। জেলায় যারা শিল্প উদ্যোক্তা আছেন তাদের বিসিক থেকে প্রশিক্ষণের পর ঋণ এবং শিল্পকারখানা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
আব্বাস আলী/এফএ/এমএস