ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বদলে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের মানচিত্র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কুড়িগ্রামের নদী ভাঙন কবলিত উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুর। ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে উপজেলা দুটি। ব্রহ্মপুত্র নদটি একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্য থেকে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপ্রান্তে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দুটির অবস্থান। উপজেলা দুটির স্থলভাগ গড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার মিটার প্রশস্ত। যার পূর্বপ্রান্তে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, প্রতি বছর বন্যা ও বন্যার পরবর্তী সময়ে এ এলাকার ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দেয়। ফলে এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বহু স্থাপনা, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দুটি উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার, ২০টি হাট-বাজার, ৫টি নৌ-ঘাট, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৭টি মাদরাসা, ১২ হাজার হেক্টর জমিসহ বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি, এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের মুখে পড়েছে।

এছাড়াও ভাঙনের মুখে পড়েছে রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর, বাইটকামারী, উত্তরখেদাইমারী, দক্ষিণখেদাইমারী, উত্তর পাখিউড়া, পশ্চিম খনজনমারা, কুঠিরচর, চরবাঘমারা, চর বন্দবেড়, সাহেবেরআলগা, গেন্দার আলগা, ধনারচর, দিগলাপাড়া। আর রাজিবপুর উপজেলার উত্তরসাজাই, দক্ষিণসাজাই মাধবপুর, কড়াতিপাড়া, রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসন, খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল, টিএন্ডটি ভবন, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম নদী ভাঙনের শিকার।

ইতোমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলীন হয়েছে রৌমারী উপজেলার ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, ঘুঘুমারী,খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, পশ্চিম বাগুয়ারচর, বাইসপাড়া, বলদমারা, পশ্চিম পাখিউড়া ফলুয়ার চর, পালেরচর, ধনারচর, দিগলাপাড়া, তিনতেলী।

Kurigram--Vaggan-Photo1

অপরদিকে রাজিবপুর উপজেলার পশ্বিম রাজিবপুর, ধলাগাছা, তারাবর, বড়বেড়, মদনের চর, মুন্সীপাড়া, হাজীপাড়া, নয়ার চর,লম্বাপাড়া, সন্দেসীকান্দা, সবুজপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, ঢাকাইয়াপাড়া, দশঘরি পাড়া, বাজারপাড়া, বোল্লাপাড়া, মাঠেরভিটা শংকরপুর, সংকর মাধবপুর, মাধবপুর, উত্তর সাজাই, কোদালকাটি, দক্ষিণ সাজাই, চর সাজাইসহ প্রায় শতাধিক গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে।

এ সব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ তাদের বাপ-দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিণত হচ্ছে ভূমিহীনে। এসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে হেলিপ্যাড ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে। প্রতি বছর ভাঙনের ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

রৌমারী নদী ভাঙন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ জানান, গত পাঁচ বছরে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে উদ্বাস্তু হয়েছে। এইসব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। উদ্বাস্তু পরিবারের পুনর্বাসন ও নদী ভাঙন রোধ না করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়ন (ডিপিপি) প্রস্তুত করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। প্রস্তাবনাটি পরিকল্পনা কমিশন ও একনেকের সভায় অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ শুরু হবে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর সংরক্ষণ কাজের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়ন (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। এ ডিপিপি তেরির কাজে বার বার ভুল হয়। এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে কথা বলেছি, নোটিশ দিয়েছি, মানানীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ৬৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়ন (ডিপিপি) করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদিত হলে কাজ শুরু হবে।

নাজমুল হোসাইন/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :