গাজীপুরে হত্যা মামলায় ৪ যুবকের মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৯ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গাজীপুরে মালিককে হত্যা করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের দায়ে চার যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে অপর একটি ধারায় ১০ বছরে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল হক মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।

নিহত খোকা মিয়া নরসিংদীর মনোহরদী থানার দক্ষিণ বারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কালিয়াকুড়ি গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২৭), গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া চালার বাজারের গণি ওরফে সুরুজ মিয়ার ছেলে শওকত (২৮), একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাস্টারবাড়ি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মিজান (২৯) ও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে শাহীন মিয়া (২৯)। রায়ে মামলার অপর দুই আসামি শিশির সংমা (২৮) ও খোরশেদ আলম নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি খোকা মিয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ভাড়া করে শ্রীপুর পৌরসভার মাধোখোলা খাসপাড়া এলাকায় আসে কামরুল ইসলাম। দূরের রাস্তা হওয়ায় চালক জসিম অটোরিকশার মালিক খোকা মিয়াকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন। অটোরিকশাটি মাধোখোলা এলাকার গহীন জঙ্গলে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা কামরুলের সহযোগীরা অটোরিকশাটি থামিয়ে খোকা মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে। চালক জসিমকে গলাকাটার সময় আহত অবস্থায় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে খুনিরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোকা মিয়ার (৪০) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় এসআই আবদুস সালাম বাদী হয়ে ওইদিন রাতে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় কামরুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা আরও দু’জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে আরও তিনজনের সম্পৃক্ততা পায়। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৫ মে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে গাজীপুর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মুবিন খান ও অ্যাডভোকেট নাসরিন আক্তার মায়া মামলাটি পরিচালনা করেন।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :