খালের পানিতে তাকিয়ে হাজারো কৃষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৯:১৭ এএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বোরো রোপা ধানের উৎকৃষ্ট ফলন পেতে জানুয়ারি মাসের মধ্যে রোপন করা জরুরি। তবে জানুয়ারি মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে রেপান শেষ করতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু এখন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চলে এলেও গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত জমির কৃষকরা পানি না পেয়ে বোরো ধান রোপন করতে পারেননি। ফলে ঝিনাইদহসহ জিকে সেচ প্রকল্পের আওতার কয়েক লাখ হেক্টর জমির রোপা বোরো ধান রোপনে শঙ্কা ও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো রোপনের জন্য গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পানি উত্তোলনের পাম্প চালু করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজির নির্দেশ ছিল। কিন্তু নদী থেকে সেচ পাম্প পর্যন্ত পলি অপসারণ ও সেচ পাম্প মেরামতের ধীর গতির কারণে সঠিক সময়ে পানি দেয়া সম্ভব হয়নি। ভরা মৌসুমেও পানির অভাবে কৃষকরা জমিতে ধান রোপন করতে পারছে না।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলায় ৮২ হাজার ১৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু জিকে সেচ আওতার ঝিনাইদহ সীমান্তবর্তী কয়েক লাখ কৃষকের বোরো রোপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার জটারখাল গ্রামের কৃষক জহির হোসেন বলেন, আমরা এখনও পানির অভাবে বোরা ধান রোপন করতে পারিনি। খুব অল্প সংখ্যক কৃষক স্যালোপানি দিয়ে ধানের চারা রোপন করেছেন। ফলে এলাকার কয়েক হাজার কৃষক জিকে খালের পানির দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কবে নাগাদ পানি আসবে সেটা নিয়েও চরম শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। এ বছর সময়মতো ক্যানেলে পানি না পেয়ে বোরো ধান রোপন করতে পারেননি কৃষকরা। এ নিয়ে মহাবিপাকের আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পান্নি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরশাদ আলী চৌধুরি জানান, জিকে সেচ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপা ধানের আবাদ করবেন কৃষকরা। কিন্তু এ বছর একটু সমস্যার কারণে আগাম পানি পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, গত সোমবার খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সেচ পাম্পগুলো চালু করা হয়েছে। দ্রুতই ক্যানেলগুলোতে পানি চলে আসবে।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, দেরিতে চারা রোপন করলে রোগের ঝুঁকি থাকে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, কিন্তু ফলন কমে যায়। অন্যদিকে দেরিতে রোপনের ফলে ঝড়, শিলাবৃষ্টির মতো দুর্যোগের সমস্যায় পড়তে হয়।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।