জাতিসংঘে বাংলা চাই, শেরপুরে ভোটে ব্যাপক সাড়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলাকে জাতিসংঘের সপ্তম দাফতরিক ভাষার দাবিতে আয়োজিত অনলাইন ভোট ক্যাম্পেইনে শেরপুরে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

মঙ্গলবার শেরপুর সরকারি কলেজে এ ভোট ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের পর থেকেই তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশপাশি অনেককেই নিজেদের মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপে বাংলার পক্ষে অনলাইনে ভোট দেন।

sheerpore

দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহায়তায় ‘জাতিসংঘের সপ্তম দাফতরিক ভাষা হোক বাংলা’ স্লোগানে অনলাইন ভোটিং কার্যক্রমের আয়োজন করেছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম।

স্থানীয় অনলাইন এক্টিভিস্ট ইমরান হাসান রাব্বী বলেন, ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়ে বাঙালির ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর ২০১৮ সালে আমরা বাংলাকে জাতিসংঘের সপ্তম দাফতরিক ভাষার জন্য ভোট দিচ্ছি। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও জাগো নিউজের এ ভোট ক্যাম্পেইন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বিষয়টি তারা সামনে এনেছে বলেই আমাদের মাঝে একটা জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে এর লিংক শেয়ার করছি। নিজে ভোট দিয়েছি, অপরকে ভোটদানে উৎসাহিত করছি। আশা করছি, এ উদ্যোগে দেশের সব মানুষ শামিল হবে।

শহরের নিউমার্কেট আরটি কম্পিউটার্সের মালিক রহিজ উদ্দিন হৃদয় বলেন, আমি এ অনলাইন ভোট দেয়ার মাধ্যমে গর্ববোধ করছি। মনে হয়েছে, নিজের মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠার জন্য আমিও একটা কিছু করার সুযোগ পেয়েছি। সরকারি কলেজে ক্যাম্পেইনটি শুরুর পর থেকেই আমরা বন্ধু-বান্ধব সবাইকে অনলাইনে ভোট দেয়ার জন্য বলেছি।

শেরপুর তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকীয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কারী মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, মা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমি সবার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। সবসময় এ তিনটি বিষয়কে সবার উপরে তুলে ধরতে হবে। বাংলাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠার এ এক অনন্য আয়োজন। সবাইকে এ অনলাইন ভোট দানে এগিয়ে আসা উচিত। আমি নিজে বাংলার পক্ষে ভোট দিয়েছি। অন্যদেরকেও এ ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে বলেছি। অবশ্যই এ উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে।

sheerpore

নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ শেরপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি মনে করি অনলাইনে বাংলার জন্য ভোট দিয়ে বাংলার জন্য দায় শোধ করার এ এক অনন্য সুযোগ। এ জন্য ২১ ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আমরা শহীদ মিনারে বাংলার জন্য অনলাইন ভোটিংয়ের বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছি।

শহরের গৃর্দানারায়নপুর এলাকার শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা যুথী বলেন, আমি মঙ্গলবার অনলাইনে ভোট দিয়েছি। বুধবার বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের বাংলার পক্ষে ভোট দিতে বলেছি।

ব্যাংকার আব্দুর রশিদ তাপস বলেন, আমার ভোটে যদি বাংলা জাতিসংঘে দাফতরিক ভাষার মর্যাদা পায়, তবে কেন আমি তাতে সমর্থন দেব না। তাই যখনই ভোটের কথা শুনেছি, তখনই ভোট দানে মনস্থির করেছি। আমার সহকর্মী এবং ব্যাংকের গ্রাহকদেরকেও ভোট দিতে বলেছি।

গতকাল মঙ্গলবার শেরপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে অনলাইন ভোট ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান। উদ্বোধনী দিনে ভোট দিতে তরুণ-তরুণীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

হাকিম বাবুল/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :