মাঝ নদীতে বাঁধ দিয়ে বালু উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৪:২১ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
মাঝ নদীতে বাঁধ দিয়ে বালু উত্তোলন

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলংজানি নদীর মধ্যখানে বাঁধ দিয়ে ১৯টি ড্রেজার বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চলছে বালু উত্তোলন। প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি গত ১৫-১৬ দিন ধরে এ বালু তুলছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নিউ ধলেশ্বরীর শাখা এলংজানি নদীর পাথাইলকান্দি মৌজায় বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলেঙ্গা পৌরসভার হাকিমপুর গ্রামের ফরজ আলী (৪৮) ও বাঁশী গ্রামের মো. লাবু মিয়া (৪০) স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ১৯টি ড্রেজার বসিয়ে এ বালু উত্তোলন করছেন। ফরজ আলী ও মো. লাবু মিয়ার লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

স্থানীয়রা জানায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নদীশাসনে ব্যবহৃত স্লাবগুলো ভেঙে নদীতে পড়ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করে নদী তীর ভেঙে বাড়ি-ঘর, স্কুল-মাদরাসা ভেঙে নদীগতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীর দক্ষিণ পাশে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা। এছাড়া নদীর মাঝখানে বাঁধ দেয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি প্রবাহ না থাকায় নদীর তীরঘেঁষে বোরো আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

balu

ধলাটেঙ্গরের মুক্তার আলী, এলেঙ্গা উত্তর পাড়ার শাজাহান মিয়া, পাথাইলকান্দি গ্রামের ছব্বের আলীসহ অনেকেই জানান, স্থানীয় অনেকের জমিই ইতিপূর্বে এলংজানি নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীতে বাঁধ দিয়ে মো. ফরজ আলী গত ১৫-১৬ দিন ধরে বালু তুলে বিক্রি করছেন। বাধা দিতে গেলে তাদের বাহিনী দিয়ে আমাদের ওপর নির্যাতন করা হয়।

এ নিয়ে অভিযুক্ত ফজর আলী জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য সরকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সেই প্রকল্পের আওতায় এশিয়ান ড্রেজার নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তিনি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন না তিনি।

এশিয়ান ড্রেজার নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক মো. বাদল মিয়া জানান, সরকার নদী খননের প্রকল্প গ্রহণ করে দরপত্র আহ্বান করেছে। আমরা দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ পাইনি। আগামী মার্চ মাসের শুরুতে কার্যাদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কার্যাদেশ না পেলে কাজ করার প্রশ্ন অবান্তর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জানতে চাইলে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রাথমিক তদন্তের পর ওই নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাজাহান সিরাজ জানান, নদী খননের কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। নিউ ধলেশ্বরীর শাখা এলংজানি নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। এছাড়া এসব বিষয় স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন তদারকি করে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারি নির্দেশনার বাইরে কিছু করে না বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আইআই