৯ শিক্ষার্থীকে অশ্রুতে স্মরণ

উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
৯ শিক্ষার্থীকে অশ্রুতে স্মরণ

বুকে তীর বিদ্ধ অবস্থায় উড়ছে ৯টি কবুতর। শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। আর পাশেই রক্তের স্রোতে বইয়ের বর্ণমালা মুছে যাচ্ছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘আমার বর্ণমালা তুমি ভালো থেকো।’

বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত হয়েছে এসব নিহত শিশুদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল পিকনিক ট্রাজেডির চার বছর পালিত হয়।

দিনটি ঘিরে বৃহস্পতিবার বেনাপোলে শোক দিবস পালিত হয়েছে। ২০১৪ সালের এ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী।

শোকের দিনটিকে ঘিরে বেনাপোল পৌর সভার উদ্যোগে নেয়া হয় নানা কর্মসূচি। সকালে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন, শোক র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠ থেকে পৌর মেয়রের নেতৃত্বে এক বিশাল শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে নিহতদের স্মরণে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে নিহত শিশুদের স্মরণ করেন।

শোক র্যালি ও দোয়া অনুষ্ঠানে বেনাপোলের ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নিহতদের বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিন যেন পুরো বেনাপোল শোকের নগরীতে পরিণত হয়।

স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্প অর্পণ শেষে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজ্জত আলীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল। এ সময় বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ মাস্টার, পৌর কাউন্সিলর শাহবুদ্দিন মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আজিবর রহমান ও শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হুসাইনসহ বেনাপোলের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মেহেরপুরের মুজিবনগরে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় সাতজন শিক্ষার্থী। এ সময় আহত হয় আরও ৭০ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিক্ষার্থী মারা যায়।

মো. জামাল হোসেন/এএম/আইআই