বাঁশ আর কাগজে তৈরি শহীদ মিনারে তাদের শ্রদ্ধা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতরা বুকের রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করেছিলেন। তাদের সেই জ্বালানো দীপশিখাই একাত্তরে অধিক উজ্জ্বল হয়ে স্বাধীনতায় রূপ নিয়েছিল।

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার মাতৃভাষা দিবসে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশ আর কাগজে তৈরি ওসব শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেলেও নারায়ণগঞ্জের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজো শহীদ মিনার তৈরি করা হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অনেক শিক্ষার্থী শহরের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মুসলিমনগর হাজী আব্দুল কাদের কাজী আব্দুল মজিদ উচ্চবিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

দীর্ঘ ২৩ বছর আগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হলেও এখনও স্কুলে শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের সময় অনেক প্রার্থী শহীদ মিনার তৈরির আশ্বাস দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর বিষয়টি ভুলে যান তারা।

এদিকে, সদর উপজেলার কাশিপুর মধ্যনরসিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

একইভাবে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যবাজার পঞ্চবটি এলাকার হাজী মতিউর রহমান সরকারি উচ্চবিদ্যালয়েও শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্কুলটি অনেক পুরনো হলেও ম্যানিজং কমিটি স্কুলে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

এছাড়া বন্দর উপজেলার ঘাড়মোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কিনা জানা নেই। সরকারিভাবে বরাদ্দ আসে। সেখান থেকে শহীদ মিনার তৈরি করতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় এমপি চেয়ারম্যানরা ইচ্ছে করলেই সেই বরাদ্দ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করতে পারেন। এই যুগে বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন খুবই দুঃখজনক।

শাহাদাত হোসেন/এএম/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :