গ্রাম পুলিশের প্রহারে বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ০৪ মার্চ ২০১৮

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মারধরে হোসনে আরা নামের এক বায়োবৃদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা টইটং ইউনিয়নের পেন্ডারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত একই এলাকার জাকির হোছাইনের স্ত্রী।

নিহতের ছেলে কলিম উল্লাহ বলেন, ঠুনকো অভিযোগের ছুতোয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম শনিবার রাতে আমাদের বাড়িতে ৬-৭ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য পাঠান। তারা বাড়িতে এসেই আমার ছোটভাই ফাহিমকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় অামার মা কারণ জানতে চাইলে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাকে গালমন্দ করে গলাধাক্কা ও কিলঘুষি মারে। এতে তিনি মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপরও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা হাতের লাঠি দিয়ে মারতে উদ্যত হলে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমার মা হোসনে আরা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। তাকে মারধর এবং আদরের ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ মৃত্যুর জন্য টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ও তার পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়ী।

অভিযোগের ব্যাপারে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রাম আদালতে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা না এসে উল্টো বাদীর উপর হামলার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি বাদী এসে আমাকে অবগত করলে আমি বিবাদী পক্ষকে চূড়ান্ত নোটিশ দিতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু মারধর তো দূরের কথা তারা কাউকে বকাবকি পর্যন্ত করেনি। শুধুমাত্র নোটিশটি দিয়ে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, হোসনে আরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ রোগে ভুগছিলেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক সুরতহালে আঘাতের কোনো চিহ্ন ও পরিবারের অভিযোগ না পাওয়াতে মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।