সাংবাদিক ফয়সালের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা বিমানের যাত্রী সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদের শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলের মৃত্যুশোকে পাগল প্রায় ফয়সালের বাবা-মা।

ফয়সাল শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের সামসুদ্দিন সরদারের ছেলে। তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে সোমবার নেপাল যাচ্ছিলেন ফয়সাল। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার সময় ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের ওই বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। পরদিন ফয়সালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ফয়সালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছেলের মৃত্যুশোকে ফয়সালের মা সামসুন্নাহার বেগম অচেতন প্রায়। ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার বাবা আমার বুকে আসো বলে বিলাপ করছেন।

মায়ের হাতে রান্না করা গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি খুবই পছন্দ ছিল ফয়সালের। মা সামসুন্নাহার বেগম মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরে পেলে সেই খিচুড়ির কথা মনে করেই আহাজারি করছেন।

ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার জানান, তার ছেলে যে নেপাল গেছে সেটি তারা কেউ জানতেন না। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার অনেক পড়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি ফোন করে ফয়সাল কোথায় আছে জানতে চান। এরপর তিনি বড় মেয়েকে ফোন করেন। তখন বড় মেয়ে জানায়, ফয়সাল ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাসা থেকে বের হয়েছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। রাতে তারা নিশ্চিত হন নেপালে বিধ্বস্ত বিমানে ফয়সাল ছিল।

plane

ডামুড্যা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের সামসুদ্দিন সরদার ও মোসাম্মৎ সামসুন্নাহার বেগমের বড় ছেলে সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ (২৮)। তারা পাঁচ ভাই বোন।

২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ঢাকার তিতুমীর কলেজে এইচএসসি এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন ফয়সাল।

ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত ফয়সাল বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে বড় বোন শিউলী আক্তারের বাসায় থাকতেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে খুব কম আসতেন ফয়সাল। সর্বশেষ গত ৮/৯ মাস আগে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শরীয়তপুর এসেছিলেন। অফিস থেকে ৫ দিনের ছুটি নিলেও নেপাল যাওয়ার বিষয়ে অফিসকে অবহিত করেনি। পরিবারের কেউ জানতো না ফয়সাল নেপাল গেছে।

ছগির হোসেন/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :