তবুও কাটছে টিলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ২২ মার্চ ২০১৮

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অবাধে চলছে টিলা ও পাহাড় কাটা। এসব টিলা কেটে মাটি বিক্রি যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর এজন্য একদল টিলা খেকো ঐক্যবদ্ধভাবে চক্রও গড়ে তুলেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল দিনারপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তুর টিলা কেটে বিক্রি করে তারা বিত্ত বৈভবের মালিক বনেছে। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে পাহাড়ি ঐতিহ্য, অন্যদিকে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

এসব টিলা দস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়দের কেউ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন না। তবে তারা বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলেও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালালেও আগে থেকেই তারা খবর পেয়ে টিলা কাটা বন্ধ রাখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনারপুরের দক্ষিণ কায়স্থগ্রামের উঁচু একটি টিলা থেকে কয়েক দিন ধরে মাটি কাটছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ওই গ্রামের সোহেল, মারুফসহ একটি স্থানীয় প্রভাবশালী পাহাড় খেকো চক্র ওই টিলা কাটায় জড়িত। তারা প্রকাশ্যে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়াও পানিউমদা ইউনিয়নের বরকান্দি গ্রামের মৃত নাইয়র মিয়ার ছেলে কাওছার মিয়া তার নিজ তত্ত্বাবধানে বাড়ির নিকটবর্তী টিলা থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ছড়া দামে বিক্রি করছে। কাওছার কয়েকদিন আগেও মাটি বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ করেন এলাকার লোকজন।

jagonews24

স্থানীয়রা জানায়, এক সময় পশু-পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকত দিনারপুরের পাহাড়ি এলাকা। বিশেষ করে বন্য বানরের জন্য বিখ্যাত ছিল এ এলাকা। তখন এগুলো দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। পাহাড় কেটে জঙ্গল উজাড় করে ফেলায় এখন আর পশু-পাখি তেমন দেখা যায় না। পাওয়া যায়না দলবাঁধা বানরও।

অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা সিন্ডিকেট করে এসব পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনছেন।

এদিকে গত বছর দিনারপুরের পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই এলাকার পাহাড় কাটা নিয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১২ জানুয়ারি বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এ নির্দেশের পরও কিভাবে টিলা কাটা হয় এনিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, পাহাড় বা টিলা কাটার বিষয়ে প্রশাসন সব সময় সচেতন রয়েছে। নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। কায়স্থগ্রামের টিলা কাটার খবর পাওয়ার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদি আর কেউ কাটে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।