যুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্বের শুরু?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬
জেডি ভ্যান্স ও ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ফাইল ছবি: ফেসবুক@ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে কোনো সিদ্ধান্তের সবচেয়ে সোচ্চার সমর্থক হিসেবে পরিচিত দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর গণমাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযানের বৈধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লড়াকু ভূমিকা নিয়েছিলেন ভ্যান্স। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার গত দুই সপ্তাহে তার এ ধরনের ‘আগ্রাসী’ সমর্থন রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত।

প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন ভ্যান্স

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) নর্থ ক্যারোলিনায় সাংবাদিকরা ভ্যান্সকে জিজ্ঞেস করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে এবং পরে তিনি ট্রাম্পকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন।

জবাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িয়ে সবার সামনে বলতে চাচ্ছি না যে, সেই গোপন বৈঠকের ঘরে আমি ঠিক কী বলেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপদেষ্টাদের আলোচনা গোপন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের জবাব ইঙ্গিত দেয়, ভ্যান্স ইরান যুদ্ধের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানাতে এড়িয়ে যাচ্ছেন, বরং বারবার দায় চাপাচ্ছেন প্রেসিডেন্টের ওপর।

‘অনিচ্ছুক’ সমর্থক?

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের বিপক্ষে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প যখন যুদ্ধের বিষয়ে অনড় অবস্থানে যান, তখন তিনি দ্রুত এবং চূড়ান্ত হামলার পক্ষে মত দেন। ভ্যান্সের এই দোদুল্যমানতা তার পুরোনো ‘নন-ইনটারভেনশনিস্ট’ (হস্তক্ষেপবিরোধী) দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।

সিনেটর থাকাকালে ভ্যান্স অতীতে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করেছিলেন। ২০২৩ সালে এক মতামত নিবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি সফল হওয়ার একটি কারণ ছিল তিনি নতুন যুদ্ধে জড়াননি।

২০২৪ সালেও তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নয় এবং এতে বিপুল সম্পদের অপচয় হবে।

ট্রাম্প ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দূরত্ব নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। তবে হ্যাঁ, দর্শনের দিক থেকে তিনি (ভ্যান্স) হয়তো আমার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। আমার মনে হয়, তিনি যুদ্ধের বিষয়ে হয়তো আমার মতো এতটা উৎসাহী ছিলেন না।’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই বিভক্তি নিয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভ্যান্সকে দলের একজন ‘অপরিহার্য কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

২০২৮-এর রাজনৈতিক সমীকরণ?

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ভ্যান্স নিজেকে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখছেন। বর্তমানে জনমত জরিপে ৫৩ শতাংশ মার্কিন ভোটার এই যুদ্ধের বিপক্ষে। এমন অবস্থায় যুদ্ধের দায় নিজের কাঁধে না নিয়ে কেবল ‘প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা’ হিসেবে প্রচার করা ভ্যান্সের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।