শেরপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন মুক্তিযোদ্ধাদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ২৬ মার্চ ২০১৮

শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে মহান স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার সোহেল রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ।

তারা শহরের উত্তরবাজার এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ দিয়ে লিখিত বক্তব্য নেয়ার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিবাদে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বিএনপি নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন।

এদিকে, শেরপুর সদরেও মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাওয়াতপত্র না দেয়ায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

পরে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে নির্ধারিত সময়ের দেড়ঘণ্টা পর মুক্তিযোদ্ধারা সংবর্ধনাস্থলে হাজির হন। এরপর শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Sherpur-4

নালিতাবাড়ীতে উত্তরবাজার এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যোগ দিতে ২৫ মার্চ বিকেলে একটি প্যান্ডেল তৈরি করতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাতে বাধা দেন।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধারা কোথায় বসবে প্রশ্ন করলে ইউএনও তাদের মাটিতে বসার কথা বলেন। এছাড়া তারা ইউএনও’র বিরুদ্ধে প্রতি বছর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের নিম্নমানের খাবার ও উপহার দেয়ার অভিযোগ করেন। তারা এ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা বারি তালুকদার, আব্দুস সালাম, নাজিম বিডিআর বক্তব্য রাখেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বদিউজ্জামান বাদশা, মোকসেদুর রহমান লেবু ও সরকার গোলাম ফারুক।

তবে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার সোহেল রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অশালীন আচরণের প্রশ্নই আসে না। আমিও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমি তাদেরকে সব সময় সম্মানের চোখে দেখি।

হাকিম বাবুল/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :