শিক্ষার্থীদের বেশি নম্বর দিয়ে ধরা পড়ায় আন্দোলনে শিক্ষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৮

গাইবান্ধা শহরের আহম্মদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজের কিছু শিক্ষার্থীকে নম্বর বেশি দেয়ার ঘটনায় ধরা পড়ায় শাস্তি থেকে রেহাই পেতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ইঙ্গিতে অন্যান্য শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষার ফলাফল জমা দেন। এর মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইংরেজি, বাংলা এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ের ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে নম্বর বেশি দেয়া হয়।

বিষয়টি ধরা পরলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির আহ্বায়ক রফিকা ইসলাম, সদস্য শফিউল আলম সরকার, তানিয়া শারমিন ও সোহেল রানাকে গত ২২ মার্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ওই কমিটির সদস্যরা গত ২৭ মার্চ তার জবাব দেন।

বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সভায় ওই চার শিক্ষককে অধ্যক্ষ মাজহারউল মান্নান ও গভর্নিং বডির সভাপতি শাহজাদা আনোয়ারুল কাদির ভর্ৎসনা করেন এবং মৌখিকভাবে অধ্যক্ষ মাজহারউল মান্নান পরীক্ষা কমিটির চার সদস্যকে পরদিন থেকে স্কুলে না আসার কথা বলেন।

এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে সব শিক্ষক একত্র হয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করেন। পরে শিক্ষকদের উসকানিতে কিছু শিক্ষার্থী সকালে বিদ্যালয় ফটক, পশ্চিম পাড়ার এলাকায় শাহজাদা আনোয়ারুল কাদিরের বাসভবন ও সুখনগর এলাকায় অধ্যক্ষের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় মাজহারউল মান্নান সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে, পরীক্ষা কমিটির ওই চার সদস্যকে বিদ্যালয়ে না আসার কথা বলায় অন্যান্য শিক্ষকরাও ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে ক্লাস বর্জন করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যায়। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

শফিউল আলম সরকার বলেন, কম্পিউটার অপারেটরের অনভিজ্ঞতার কারণে ফলাফল শিটে ভুল হওয়ার কারণ জানিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে নোটিশের জবাব দিয়েছি। এরপরও অধ্যক্ষ মাজহারউল মান্নান মৌখিকভাবে পরীক্ষা কমিটির চার সদস্যকে বিদ্যালয়ে না আসার কথা বলেন। এতে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক মাহামুদুল হাসান খান বলেন, কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী বেশ কিছু শিক্ষার্থীর নম্বর বৃদ্ধির বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ করে। এর প্রেক্ষিতে আমি পুনরায় ফলাফল যাচাই করে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাই, আমার অনুমতি ছাড়াই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটি ইচ্ছেমতো ওসব ছাত্রের নম্বরগুলো বাড়িয়েছে।

অধ্যক্ষ মাজহারউল মান্নান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকরা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে কম্পিউটার অপারেটরের যে ভুলের কথা বলেছেন সে কথার কোনো ভিত্তি নেই। কেননা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের জমা দেয়া নম্বরের চেয়ে তাদের নিজেদের পছন্দের নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদেরই যে শুধু নম্বর বেশি দিয়েছেন সেটি ধরা পড়েছে। আর সেই অপকর্ম ঢাকতে শিক্ষকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

সভাপতি শাহজাদা আনোয়ারুল কাদির বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী এই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। কয়েকজন শিক্ষক এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে ইতোপূর্বে তাদের সতর্কও করা হয়। এই বিষয়টিও শিক্ষকদের ক্ষুব্ধ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।

এছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির চারজন শিক্ষক যে কাজটি করেছেন তা ধরা পড়েছে। সেজন্য অপরাধ থেকে মুক্তি পেতে অন্যান্য শিক্ষকদেরও ভুল বুঝিয়ে এই কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা।

গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।