মাদক দিয়ে ফাঁসানো সেই দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮

যশোরের অভয়নগরের বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা হয়েছে।

রোববার অভয়নগরের ইছামতি গ্রামের হাজী কাইয়ুম মোল্যার ছেলে আবুল কালাম এ মামলা করেছেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. মিজানুর রহমান মামলাটি আগামী ১০ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আসামিরা হলেন- এসআই ফরিদ আহম্মেদ ও এএসআই খাদেমুল গফফার।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, আবুল কালাম মাদকসেবন ও ব্যবসা করতেন। গত ৩০ জানুয়ারি তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আশার জন্য যশোর পুলিশ সুপারের কাছে একটি আবেদন করেন। ওইদিন তার এ আবেদন গ্রহণ করেছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার পরও স্থানীয় বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ক্যাশিয়ার তাকে টাকার জন্য খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করলে ক্যাম্পের পুলিশ তাকে নানাভাবে হয়রানি করে।

এর মধ্যে ক্যাম্পের এএসআই খাদেমুল গফফার তাকে লোক মারফত এবং ফোন করে দেখার করতে বলেন। কালাম মোল্যা তার সঙ্গে দেখা না করায় চরম ক্ষিপ্ত হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

একপর্যায়ে কালাম মোল্যার কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার ভাই তরিকুল ইসলামকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যান এএসআই খাদেমুল গফফার। তরিকুলের কাছে ৩২ কেজি গাঁজা, ৫০০ গ্রাম হেরোইন ও ৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আবুল কালামকে জানানো হয়।

এএসআই খাদেমুল গফফার দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে বলেন। এসআই ফরিদ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও একই কথা বলেন।

পরে তরিকুলের স্ত্রী রোকসানা খাতুন ক্যাম্পে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে। কিন্তু টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় রাজি হচ্ছিল না পুলিশ। একপর্যায়ে তরিকুলের বিরুদ্ধে মামলা দেবে না বলে তার স্ত্রী রোকসানা খাতুনের গলার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল খুলে নেন এএসআই খাদেমুল গফফার। টাকা গহনা নেয়ার পরও তরিকুল ইসলামকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আবুল কালামের দায়ের করা আদালতের মামলার অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আবুল কালাম জানিয়েছেন, বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ফরিদ আহম্মেদ ও এএসআই খাদেমুল গফফারের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং করায় তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়েছেন। মোবাইলের কথোপকথনের রেকর্ডিং ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সোর্স ইমরুলকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন ওই কর্মকর্তা। ইমরুল বাড়িতে এসে না পেয়ে রেকর্ডিং ফেরত ও ৩০ হাজার টাকা দিলে আর হয়রানি করবে না জানিয়ে চলে যায়। এ ঘটনা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে।

মিলন রহমান/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।