জমির ট্রাক্টর এখন রাস্তার হুমকি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৮

আধুনিক পদ্ধতিতে দ্রুত জমি চাষের মাধ্যম হিসেবে ট্রাক্টর বা কলের লাঙ্গল অতি পরিচিত একটি কৃষিযান। বর্তমানে সেই কৃষিযান এখন সাতক্ষীরার জনসাধারণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষির উন্নয়নে এসব ট্রাক্টর আমদানি করা হলেও মালিকরা এগুলো ব্যবহার করছেন ভাটার মাটি, ইট, বালু ইত্যাদি মালামাল পরিবহনের কাজে। বেপরোয়াভাবে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে গ্রাম এলাকায়। বেশ কিছুদিন যাবৎ শহরের অভ্যন্তরেও দেখা খাচ্ছে এটি। সনদবিহীন চালকেরা ট্রাক্টরগুলো বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছেন। ফলে রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যাথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাদড়া, বাবুলিয়া, কলারোয়া পৌরসভা, ঘোনা এমনকি সাতক্ষীরা পৌরসভার অভ্যন্তরেও চলছে দানবের মত ট্রাক্টর। ট্রাক্টরের বড় বড় চাকার কারণে পিচের কার্পেটিংয়ের রাস্তা ধুলায় পরিণত হচ্ছে। ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। বেপরোয়া চলাচলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে স্কুলগামী কোমলমতি ছোট ছোট শিশুরা।

উত্তর কুশখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচল করায় স্কুলের বাচ্চারা সবসময় আতঙ্কে থাকে। আমি এ ব্যাপারে সভাপতিকে বলেছি।

কুশখালী গ্রামের গৃহিণী ফতেমা খাতুন বলেন, এই গাড়ি চলাচলের কারণে বাচ্চাদের একা ছাড়তে পারি না। আমরাও রাস্তায় চালাচল করতে পরছি না। ভাদড়া হতে কুশখালী বড়ফিল্ড পর্যন্ত রাস্তা ভেঙে প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে মাঝে মাঝে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এটি বন্ধের উদ্যোগ নিলেও এলাকার কিছু লোভী প্রভাবশালী নেতাদের চাপে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন কুশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল।

তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে বেপরোয়াভাবে ট্রাক্টর চলছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আমার কাছে অভিযোগ দিলে আমি এটি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তবে পরে দেখি আবার চলছে। কারণ জানতে চাইলে ট্রাক্টর/ট্রলির মালিকেরা বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান চালানোর অনুমতি দিয়েছে। আমি ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকেরা আকুতি মিনতি করায় আমি চালাতে বলেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, রাস্তা নষ্ট হলে সরকার ঠিক করবে। রাস্তাতো চলাচলের জন্যে। এছাড়া এগুলোতো আর ফ্রি ফ্রি চলছে না। ট্রাক্টর/ট্রলি প্রতি ভাইস চেয়ারম্যানের শ্যালক আজারুল ইসলাম ৫০ টাকা করে নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার শফিউল আজম জাগো নিউজকে বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। রাস্তায় এ সকল ভারি যানবাহন চলাচলের কোনো অনুমতি নেই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুই একদিনের মধ্যে প্রত্যেক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা বিআরটি এর সহকারী পরিচালক তানভীর আহম্মেদ জানান, ট্রাক্টর ও ট্রলি দুটোই অবৈধ। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।