সার্জন মতিনের পরামর্শে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৮

চিকিৎসার অভাবে এখন আর কোন গবাদিপশু অকালে মারা যায় না। পোল্ট্রি খামারে মড়ক লেগে লেয়ার, বয়লার, সোনালী মুরগি মরে কোন খামারি আর পথে বসে সর্বশান্ত হয় না। কোনো গবাদিপশুর প্রসব জনিত সমস্যা সহজে সমাধান হচ্ছে। এ কথা এখন আর অবাস্তব নয়, সত্য। প্রাণিসম্পদ অফিসে এখন গবাদিপশুর সিজারসহ শুরু হয়েছে ময়নাতদন্ত। সেই সঙ্গে একটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সঠিক চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দেয়ায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তিনটি জেলার কয়েকটি উপজেলার ডেইরি ও পোল্ট্রি খামারিরা। বেশ কয়েক বছর থেকে একজন চিকিৎসকের হাত ধরে নীরবে ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পে সফলতার মুখ দেখছে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগে খামারিদের সুদিন ফিরিয়ে দিতে যে চিকিৎসক বড় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া প্রাণি সম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শেখ এম এ মতিন। একই সঙ্গে তার হাত ধরে এলাকার ডেইরি সেক্টরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গবাদিপশুর উন্নত জাত পরিবর্তনের সফলতাও আসছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রাণিসম্পদ বিভাগে এলাকায় আশার আলো জাগিয়েছেন ডা. শেখ এম এ মতিন।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, পাবনার ফরিদপুর, চাটমোহর, ভাগুড়া, নাটোরের গুরুদাসপুর, বাড়াইগ্রাম, সিংড়া উপজেলার খামারিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরার্মশের অভাবে ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পে একের পর এক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সেই পরিস্থিতি থেকে তারা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে এ শিল্পে নতুন করে বিনিয়োগ করে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে।

উল্লাপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসে দক্ষ ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শেখ এম এ মতিন উল্লাপাড়ায় যোগদানের পর থেকে এসব এলাকার খামারিদের প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা ও সার্বিক পরার্মশ দেয়ায় খামারি এমন সফলতা পেতে শুরু করেছে। দক্ষ এ সার্জন বাচ্চা প্রসবে অধিক দূর্বল গর্ভবতী গরু, ছাগল, ভেড়ার সিজার করে বাচ্চা প্রসাব করাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডেইরি ও পোল্ট্রি খামারের রোগাক্রান্ত ও মৃত গবাদিপশু ময়নাতদন্ত করে রোগ সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরার্মশ দিচ্ছেন। এতে পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। একই সঙ্গে পশু পাখির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রোগ সনাক্ত করে আগাম চিকিৎসা সেবা দেয়ায় খামারিরা উপকৃত হচ্ছে।

ullapara

অল্পদিনে এ দক্ষ চিকিৎসকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন উল্লাপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর জেলার সেবা প্রত্যাশী খামারিরাসহ স্থানীয় গবাদিপশু মালিকদের ভিড় লেগেই থাকে। এর পাশাপাশি খামারিদের গবাদিপশুর গুরুতর অসুস্থের সংবাদ পেয়ে তিনি ছুটছেন গ্রামগঞ্জে বাড়ি বাড়ি।

সম্প্রতি উল্লাপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসে পৌর শহরের কাওয়াক মহল্লার স্বপন মিয়ার গর্ভবতী ছাগলের সফল সিজার করে একটি বাচ্চা প্রসব করান ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শেখ এম এ মতিন। সিজারের পর ছাগলটি এখন সুস্থ আছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের ছাগলের খামারি মো. সেলিম জানান, তিনি এক সময় ছাগল পালন করে ক্ষতির মুখে পড়ে বেকার হয়ে যান। পরে এ চিকিৎসকের পরার্মশ ও সহায়তায় আবারও ছাগলের খামার করে সফলতা পেয়েছেন। তিনটি ছাগল দিয়ে শুরু করে এখন তার খামারে ৩৮টি ছাগল রয়েছে।

এ বিষয়ে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শেখ এম এ মতিন জানান, এই প্রাণিসম্পদ অফিসে গবাদি পশুর সিজারসহ ময়নাতদন্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরার্মশ দিচ্ছি। খামারিদের সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সহায়তাসহ যাবতীয় পরার্মশ দিচ্ছি। যেকোন সময় খামারিরা খবর দিলে তাদের বাড়িতে গিয়ে গবাদি পশুর চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করি।

তিনি জানান, আমার একটু সহযোগীতা ও পরার্মশে যদি একজন খামারি একটু সফলতা পায় সেটাই আমার তৃপ্তি। খামারির মুখে হাসি দেখলেই আমার জীবনের সেরা পুরস্কারটি পেয়ে যাই বলে জানান এ দক্ষ চিকিৎসক।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএ/জেআইএম