এসআই কাঞ্চন হত্যা : দুর্ধর্ষ হাদিছ গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৫৩ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

প্রবাসে থেকেই এলাকায় দাঙ্গাবাজ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের দুর্ধর্ষ হাদিছ মিয়া ওরফে কদ্দুছ মিয়া।

দাঙ্গার খরচ যোগানো, গ্রামে বিরোধ সৃষ্টি করে রাখা, নিয়মিতই দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করাই ছিল তার কাজ। দাঙ্গা লাগিয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখা, কেউ তার বিরুদ্ধে গেলেই তাকে পিটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল তার নেশা।

একাধিক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হাদিছ। লাখাই থানার আলোচিত এসআই কাঞ্চন হত্যা মামলার অন্যতম আসামিও তিনি। দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন কুয়েতে। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার গ্রেফতারের খবরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বুলু মিয়ার ছেলে হাদিছ মিয়া ওরফে কদ্দুছ মিয়া (৩৫)। থাকেন কুয়েতে। শুধু আধিপত্য টুকুই ছিল অপূর্ণ। তাও প্রায় পূর্ণ করে নিয়েছিলেন। দুই হাতে টাকা খরচ করে কয়েক বছর আগে এলাকায় নিজের গ্রুপ তৈরি করেন। তাদেরকে দিয়ে প্রায়ই দাঙ্গা-হাঙ্গামা করান। ঘন ঘন দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।

২০১৩ সালে সিংহগ্রাম এবং তেঘরিয়া গ্রামবাসীর মধ্যে দাঙ্গা হয়। এ দাঙ্গার মূলেই ছিলেন হাদিছ। দাঙ্গায় বকুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই প্রকৃত উত্থান ঘটে তার।

এরপর ২০১৫ সালে তেঘরিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দাঙ্গার সৃষ্টি করেন। ওই দাঙ্গা থামাতে গিয়ে তার নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রুপের অস্ত্রের আঘাতে মারা যান এসআই কাঞ্চন।

২০১৬ সালেও নিজ গ্রামে দাঙ্গা লাগিয়ে বিপুল সংখ্যক লোককে রক্তাক্ত করেন। একেকটি দাঙ্গা ঘটিয়েই চলে যেতেন কুয়েতে। সেখান থেকে টাকা দিয়ে নিজ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। প্রতিটি মামলায়ই তাকে অন্যতম আসামি করা হয়।

প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি দেশে ফিরেন। খবর পেয়ে পুলিশ একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তাকে হবিগঞ্জ শহরের বাণিজ্যিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

লাখাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বজলার রহমান জানান, প্রতিবারই দেশে এসে একেকটি দাঙ্গা সৃষ্টি করেন হাদিছ। এরপরই আবার পালিয়ে কুয়েতে চলে যান। সেখান থেকে মামলার খরচ, গ্রুপ নিয়ন্ত্রণের খরচ যোগাতেন। এলাকায় নিজে একটি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন। তার বিরুদ্ধে এসআই কাঞ্চনসহ দুটি হত্যা ও ১টি দাঙ্গার মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলায়ই তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/আরআইপি