ভোলায় তরমুজের আবাদ কমেছে
গত বছর অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে লোকসানের মুখে পড়ায় এ বছর দ্বীপ জেলা ভোলায় তরমুজ আবাদে ধস নেমেছে। আগের চেয়ে এ বছর মাত্র এক-চতুর্থাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। আগের মৌসুমগুলোতে জেলায় পাঁচ-ছয় লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হলেও এ বছর দেড় লাখ টনের বেশি হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। হেক্টর প্রতি ৫০ টন হিসাবে মোট উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টন। কিন্তু চাষ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২৪ হেক্টর। সে হিসাবে উৎপাদন দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার ২০০ টন।
গত বছর ভোলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন ধরা হয়েছিল ৬ লাখ ২৫ হাজার টন। কিন্তু ফসল তোলার আগ মুহূর্তে অতিবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ চাষির তরমুজ খেত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে উৎপাদন কমে যায় প্রায় দুই লাখ টন। ক্ষতিগ্রস্ত হন বহু কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় তালুকদার বলেন, গত বছর তরমুজের বাম্পার ফলন দেখা গেলেও আকস্মিক বৃষ্টিতে অধিকাংশ চাষির তরমুজ খেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমেও চাষিরা তরমুজের আবাদ শুরু করেন। কিন্তু গাছ বড় হতেই গত ৭-১০ ডিসেম্বর টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি পানিতে ডুবে পচে গেছে তরমুজ গাছও। এরপর আবার জমি তৈরি করে আবাদ করলে ফলন আসতে বর্ষা এসে যাবে। এমন আশঙ্কায় অনেকেই তরমুজ আবাদ থেকে সরে আসেন। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলায় তরমুজের মোট উৎপাদনের সিংহভাগ চরফ্যাশন উপজেলা থেকে আসে। কিন্তু এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে বোরো ধান। উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে নুরাবাদ, মজিবনগর, চরকলমী, আহম্মদপুর, নীলকমল, আবুবক্করপুর, রসুলপুরসহ আটটি ইউনিয়নে তরমুজের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে সব ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতেই ধান।
কৃষকরা জানান, পরপর লোকসান দেয়ায় এ অঞ্চলের অধিকাংশ তরমুজচাষি এখন তরমুজের পরিবর্তে ধানের আবাদ করছেন।
নুরাবাদ ইউনিয়নের তরমুজচাষি কুরবান আলী বলেন, ২০১৬ সালে তরমুজের ভালো ফলনের পাশাপাশি প্রায় আড়াই লাখ টাকা মুনাফা করেছি। গত বছরও তরমুজের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে টানা বৃষ্টিতে সমস্ত খেত নষ্ট হয়ে যায়। অধিকাংশ তরমুজ জমিতেই পচে যায়। তাই এ বছর আর ঝুঁকি নেয়নি।

তরমুজ চাষ কম হওয়ার একই কারণ ব্যাখ্যা করেন আবদুল্যাপুরের আজিজুল ইসলাম, আলাউদ্দিনসহ আরও অনেকে।
তবে ব্যতিক্রম দু-একজন কৃষকের মধ্যে রসুলপুর ইউনিয়নের আমির হোসেন জানান, অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ২০ হাজার টাকা লোকসান হলেও একই জমিতে আবার তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। সব ঠিকঠাক থাকলেও ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজ আবাদে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে চাষিরা বসে নেই। সেসব জমিতে বোরো ও মুগ চাষ বাড়ছে। এতে তরমুজের লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।
আদিল হোসেন তপু/আরএআর/আরআইপি