ভোলায় বিএনপি নেত্রীকে রাতভর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
ভোলার দৌলতখানে তাছলিমা বেগম নামে এক বিএনপি নেত্রীকে ঘরে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইয়াছির লিটনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দিনগত রাতে চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটনের নির্দেশে তার বোন-জামাই, ভাগিনা ও ভাতিজা মিলে স্থানীয় কাজি বাড়িতে আটকে রেখে তাকে সারারাত শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নেত্রী। পরে প্রায় ৫০টি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তিনি এখন ভোলা সদর হাসাপাতলে নারী মেডিসিন ওয়ার্ডের ৬৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাছলিমা বেগম উপজেলা মহিলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।
চিকিৎসাধীন তাছলিমা বেগম জানান, গত ইউপি নির্বাচনে ৪, ৫, ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তিনি নির্বাচন করেছিলেন। তাকে প্রতিপক্ষ গ্রুপ জোর করে হারিয়ে দিয়েছে। সেই থেকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটন তার বিরোধিতা করে আসছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি আদালত থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে যাওয়ার পরে এক অপরিচিত নারী তাকে নির্জনে ডেকে নিলে ৪-৫ জন পুরুষ তাকে বেধরক পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এসময় তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে পালাতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে আবার ধরে স্থানীয় কাজি বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে হাত-পা বেধে সারারাত নির্যাতন করে। লাথি, ঘুষি, চড়-থাপ্পর মারে। তিনি সন্ত্রাসীদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে প্রায় ৫০টি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেয়। ওই অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
তাছলিমা বেগম আরও বলেন, আমার একটাই দোষ, আমি বিএনপি করি। আমার স্বামী নেই। ছয়টি সন্তান। সুযোগ পেলেই চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে বিপদে ফেলছে। গত মঙ্গলবার রাতে চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটনের লোকজন আমাকে হত্যার জন্য এ নির্যাতন চালায়। পরে কাউকে কিছু বলার শর্র্তে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছি।
ভোলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নিরুপম বলেন, তাছলিমাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরের কয়েকটি স্থানে সেলাই লেগেছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উত্তর জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনারা তদন্ত করে দেখেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানিও না কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পরে ওই নেত্রী আমার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করেছেন। তিনি কাজীবাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল নিয়ে পালানোর সময় এলাকার লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। আমি ও আমার ইউনিয়নের কোনো গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আদিল হোসেন তপু/এমবিআর/আরআইপি