সংসার চলে না তাই

আজিজুল সঞ্চয়
আজিজুল সঞ্চয় আজিজুল সঞ্চয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮
ছবি- বাহাদুর আলম

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী বিথী আক্তার। ১৫ বছর বয়সী এ কিশোরী নিজে কোনো কিছুই করতে পারে না। তার দিন কাটে হুইল চেয়ারে শুয়ে-বসে। বাবা-মায়ের টানাপোড়েনের সংসার। বাবা আক্তার হোসেন রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন করেন তাতে কোনো রকমে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিথীকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন মা পারভীন আক্তার। বোরখা পড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করা পারভীনের মলিন চেহারা বলে দেয় কতটা অসহায় এই মা-মেয়ে।

গত শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পুরাতন জেল রোডস্থ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ফটকের সামনে বিথীর মুখ মুছে দিচ্ছিলেন তার মা পারভীন আক্তার। এ সময় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় পারভীনের।

jagonews24

তিনি বলেন, সদর উপজেলার নাটাই (উত্তর) ইউনিয়নের খড়িয়ালা গ্রামে তাদের বাড়ি। তবে এখন শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ১৬শ‘ টাকায় এক কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। বিথী ছাড়া আরও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে তার। ছোট ছেলে মাদারাসায় পড়ে। তবে বড় ছেলে কিছুই করে না। স্বামী আক্তার হোসেনের উপার্জনেই চলে তাদের সংসার।

পারভীন জানান, জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী বিথী। কয়েকবার স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করলেও বিথী নিজে কিছু অনুভব করতে না পারায় তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করতে রাজি হয়নি। চিকিৎসা করনোর জন্যও টাকা নেই। থাকবেই বা কীভাবে? আক্তার হোসেন সারাদিন রিকশা চালিয়ে দুই থেকে তিনশ টাকা আয় করেন। এ টাকায় বাসা ভাড়া দিয়ে সংসার খরচ মেটানোই দায় হয়ে পড়ে। যেদিন আক্তার রিকশা চালাতে পারেন না সেদিন আর চুলায় আগুন জ্বলে না। না খেয়েই দিন পার করতে হয়। গৃহপরিচারিকার কাজ করতে চাইলেও বিথীর কারণে করতে পারছেন না পারভীন। মাঝে-মধ্যেই জোরে চিৎকার শুরু করে বিথী। এজন্য কোনো ভাড়া বাসায় বেশিদিন থাকতে পারেন না তারা। বিথীর বয়স যত বাড়ছে তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তাও তত প্রকট হচ্ছে।

jagonews24

পারভীন আরও বলেন, মেয়েটা শারীরিকভাবে অক্ষম। ওর জন্য কোনো কাজ করতে পারি না। এক জায়গায় বেশি দিন থাকতেও পারি না। ওর জন্য বাড়িওয়ালা বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমি তো মা, আমি তো আর ওকে ফেলে দিতে পারবো না। গত বছর সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার একটি কার্ড পেয়েছি। ছয় মাস পরপর তিন হাজার টাকা ভাতা পাই। এ পর্যন্ত দুইবার টাকা পেয়েছি। এই টাকা দিয়ে দিয়ে কি আর চলে? মানুষের কাছে হাত পাততে খুব লজ্জা লাগে তাই বোরখা পড়ে ভিক্ষা করি। যদি কোনো হৃদয়বান মানুষ আমাকে সহযোগিতা করতো তাহলে এই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিতাম। মেয়েটারও চিকিৎসা করাতে পারতাম।

যদি কোনো হৃদয়বান মানুষ বিথী ও তার মা পারভীনকে সহযোগিতা করতে চান তাহলে এই ফোন নম্বরে (০১৯৬১৭৮৯৩৪০) যোগাযোগ করতে পারেন।

এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :