টিউমারের অপারেশন করাতে পারছেন না মমতাজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৫:০০ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

স্বজনের অভাবে মুখে বিশালাকৃতির টিউমার অপারেশন করাতে পারছেন না গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর বাড়াইপাড়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন (২৬)। ফলে খুব কষ্টে দিন কাটছে তার। এছাড়াও প্রতিনিয়ত টিউমার থেকে রক্ত ঝরছে তার।

মমতাজ উদ্দিন জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন মুখের টিউমার অপসারণ করতে হলে অপারেশন করতে হবে। কিন্তু অপারেশনের আগে ও পরে আমাকে দেখভাল করার জন্য কেউ নেই। এ কারণে টিউমার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

Mamotaj-Gaibandha-1

তিনি জানান, চিকিৎসকরা আরও বলেছেন টিউমার অপারেশন করলে আবারও হতে পারে এবং মুখও বাঁকা হয়ে যেতে পারে।

মমতাজ উদ্দিনের পারিবার সূত্রে জানা যায়, ৯ ভাই-বোনের মধ্যে মমতাজ চতুর্থ। বাবা তছলিম উদ্দিন গ্রামে গ্রামে গাছ কাটার কাজ করতেন। দুই বছর আগে মারা গেছেন তিনি। ২০০৭ সালে ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন মমতাজ উদ্দিন। ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে বিয়ে করেন তিনি। পরে মুখের বাম পাশে একটি টিউমার বড় হতে থাকলে ওই বছরেরই শেষের দিকে অপারেশনের জন্য বাড়ি আসেন মমতাজ। ২০১২ সালের প্রথমের দিকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে অপারেশন করে টিউমার অপসারণ করা হয়। একমাস ছুটি কাটানোর পর আবারও ওই পোশাক কারখানায় যোগ দেন মমতাজ। এরপর ২০১৪ সালে আবারও একই স্থানে টিউমার হয় মমতাজের। এরপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসেন তিনি। বাড়িতে আসার পর থেকে টিউমার আরও বড় হতে থাকে। কোনো কাজ করতে না পারায় আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় মমতাজের।

Mamotaj-Gaibandha-3

এমন অবস্থায় সংসারে অভাব অনটনের কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঈদুল আজহার পর মমতাজের স্ত্রী কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে মমতাজকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন তিনি। এরপর মমতাজ একা হয়ে পড়েন। মমতাজের ঘরে ৫ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। বর্তমানে মমতাজ, তার মা ও মেয়ের দেখভাল করছেন অন্য ভাই-বোনেরা।

মমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে ০১৮৫৫-৪১৪৭৪৬ ও ০১৭২০-৫১৯২৩০ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া যে কেউ সাহায্য পাঠাতে পারেন মো. মমতাজ উদ্দিন, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, পলাশবাড়ী শাখা, গাইবান্ধা এই ১৩৭১১২০০১৮২৭৫ হিসাব নম্বরে।

Mamotaj-Gaibandha-2

এর আগে গত মাসে মমতাজ উদ্দিনকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুস শাকুর ও জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অমল চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। পরে মমতাজের বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে সেখানে ভর্তি হতে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন মমতাজ। পরে কয়েকদিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরেন তিনি।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :