জানালা দিয়ে রোগীদের হাসপাতালে ঢোকাচ্ছেন স্বজনরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৪:২১ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল তালাবদ্ধ করে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

আহত হয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সেবা পেতে বিলম্বের জেরে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকে মারধর করা হয়। ফলে সেবা বন্ধ ও রোগীদের অবরুদ্ধ করে রাখে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও অভিভাবকরা।

এ সময় হাসপাতালের জানালা দিয়ে রোগীদের ভেতরে ঢুকাতে দেখা যায়। অনেকেই তাদের রোগীকে জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকাচ্ছেন এই ভেবে হয়তো ভেতরে ঢুকলে তাদের রোগী সেবা পাবেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে চিকিৎসা দেননি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

রোগীর অভিভাবকদের হামলায় আহত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হলেন- শেফায়েত হোসেন আরাফাত ও তাওহীদ ইবেনে আলাউদ্দিন। তারা দুইজনই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক। তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকলেও কিল-ঘুষি মারা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চিকিৎসাসেবা প্রদানে তারা মনোনিবেশ করবেন না।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এদিকে হামলার ঘটনার ২ ঘণ্টা পর হাসান মাহমুদ (৩০) নামে এক রোগীকে থানায় আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ওই রোগীকেই কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

jagonews24

ভুক্তভোগীদের দাবি, কে কাকে মেরেছে তার জন্য সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা উচিত হয়নি। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে অনেক রোগী।

আহত ইন্টার্ন চিকিৎসক শেফায়েত হোসেন জানান, বেলা ১১টার দিকে হাসান মাহমুদ নামে এক রোগী মুখে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর চাপের মধ্যে তাকে চিকিৎসা দিতে একটু দেরি হলেই চিকিৎসকদের ওপর হামলা শুরু করে ৪-৫ জন যুবক। মারার পরে তারা রোগীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পু চ নু জানান, প্রায়ই চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। যারা সেবা প্রদান করবে তাদেরকে কারণে-অকারণে মারধর করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।

রোগীদের ভোগান্তির ব্যাপারে তিনি জানান, দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি কখন সেবা প্রদান শুরু হবে।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। হামলাকারীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি