চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভিক্ষায় নেমেছে কিশোরী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৬:২২ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

নিজের মুখের টিউমারের চিকিৎসা করাতে ভিক্ষা শুরু করেছে ১২ বছর বয়সী কিশোরী হালিমা আক্তার। সে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ভ্যানচালক জয়নাল আকনের মেয়ে।

ভ্যান চালিয়ে অভাবের সংসারে চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তার বাবা। বাবার করুণ অবস্থা দেখে কোনো উপায় না পেয়ে নিজের চিকিৎসার টাকা জোগাতে ভিক্ষায় নেমেছে হালিমা।

হালিমা জাগো নিউজকে জানায়, আমরা চার বোন, এক ভাই। আমি মেজো। বাবা ভ্যান চালায়। ভ্যান চালিয়েই বড় বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। আমাদের কোনো জমি নেই। গুচ্ছগ্রামে (সরকারি দেয়া জমি) থাকি। আমার টিউমার হওয়ার পর বাবা অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। টিউমারের কারণে মাঝে মধ্যে পুরো মুখ ব্যথা করে। একবার অপারেশন হয়েছিল, ডাক্তার বলেছে আরও অপারেশন করাতে হবে। এজন্য অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু বাবার কাছে তো কোনো টাকা নেই। তাই ভিক্ষায় নেমেছি।

Halima

হালিমার বাবা ভ্যানচালক জয়নাল আকন জানান, হালিমার বয়স যখন ৪ বছর তখন তার মুখের বামপাশের মাড়িতে ছোট একটি টিউমারের মতো দেখা দেয়। তখন স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। ব্যথা না কমায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তার দেখানো হয়। অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধও খাওয়ানো হয় তাকে। কিন্তু ওই টিউমার আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। হালিমার যখন ৮ বছর বয়স তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তার তার সমস্যা দেখে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। সেগুলো দেখে অপারেশনের পরামর্শ দেন। সেখানে হালিমার ছোট একটি অপারেশনও হয়েছিল। ওই অপারেশনের পর ডাক্তার জয়নালকে বলেছিলেন, আরও দুই থেকে তিনটি অপারেশন করাতে হবে হালিমার। কিন্তু টাকার অভাবে পরে আর মেয়ের অপারেশন করাতে পারেননি তিনি। ওই সময় ডাক্তার জয়নালকে এও বলেছিলেন, হালিমার পরবর্তী অপারেশনগুলো করাতে বেশ কিছু টাকা খরচ হবে।

হালিমার মা শেফালী বেগম বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে এতো বড় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। হালিমার চিকিৎসা কিভাবে করবে?

যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি হালিমা আক্তারকে সহযোগিতা করতে চান তাহলে ০১৭৩৩-৬৯৮৩০৬ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

ছগির হোসেন/এমএএস/এমএস