অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনে বড় সমস্যা স্বজনরা

রিপন দে
রিপন দে রিপন দে মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

একজন রোগীকে সুস্থ করে তুলতে বা বাঁচাতে শুধু চিকিৎসকেরই ভূমিকা থাকে না। এতে জোরালো ভূমিকা রাখেন নার্স, অায়া ও ওয়ার্ড বয়রাও। তবে সবার শুরুতে অবদান থাকে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের। তার কারণেই একজন আশঙ্কাজনক রোগীর দ্রুত চিকিৎসা করার সুযোগ পান চিকিৎসক ও নার্স। তাই জাগো নিউজের এবারের অায়োজন রোগীর জীবন রক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকদের নিয়ে।

অ্যাম্বুলেন্স শব্দটি অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের কাছে আতঙ্কের। অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ কানে এলেই আমরা আতকে উঠি। তবে এটি আমাদের জীবনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা সেই বুঝবে যার জীবনে সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তে এটি কাজে এসেছে।

সামছুল হক (৪৫) পেশায় একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক। বিগত ২০ বছর যাবৎ তিনি এ পেশায় যুক্ত আছেন। আগে বিভিন্ন প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালালেও বর্তমানে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে কর্মরত। একান্ত আলাপচারিতায় কর্মজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনি।

সামছুল হক জানান, একজন রোগীকে যখন মুমূর্ষু অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন তখন দ্রুত কিভাবে তাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবেন সেই ভাবনা মনে কাজ করে। কিন্তু রোগী পরিবহনে অনেক সময় রোগীর স্বজনরাই বাধা দেন।

অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, একবার এক রোগী নিয়ে তিনি সিলেট যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন রোগীর ৬ স্বজন। রাস্তায় স্বজনদের মধ্যে তর্কবিতর্ক, একেক জন একেক হাসপাতালে নেয়ায় জন্য চালককে নির্দেষ দিচ্ছেন। এভাবেই তারা ১ ঘণ্টা সময় নষ্ট করেন অথচ একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য প্রতিটি মিনিট দামি।

jagonews24

তাই রোগীর সঙ্গে যত কম মানুষ যাবে ততই রোগীর জন্য ভালো। বেশি মানুষ থাকলে জায়গার অভাব হয় এতে রোগীর সমস্যা হয়। আর এই ব্যাপারটা সাধারণ মানুষ বুঝতে চায় না। তারা উল্টো মনে করে, যত বেশি মানুষ সঙ্গে যাবে হয়ত ততই ভালো।

তিনি বলেন, রাস্তায় অনেক রোগী মারা যায়। তখন নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আফসোস হয় যদি আরেকটু আগে যাওয়া যেত। রাস্তায় আরেকটি সমস্যা হলো অন্য গাড়ি অ্যাম্বুলেন্সকে সাইড দিতে চায় না। কিছু কিছু চালক সচেতন কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর বিপরীত।

তিনি বলেন, দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত চালাতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালের গেটে গিয়ে রোগী বহনের ট্রলির আশায় ১৫-২০ মিনিট দেরি করেন। নিজেদের রোগী কিন্তু ওঠাতে নামাতে মানুষের অপেক্ষা করেন। এসব দেখে মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগে তখন নিজেই নামাতে তুলতে সাহায্য করি।

অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার ক্ষেত্রে কী করা উচিত জানতে চাইলে সামছুল হক বলেন, আগে দেখে নিতে হবে অ্যাম্বুলেন্সের চাকা বা সিট ঠিক আছে কিনা। এবং অন্যকে না বলে নিজেই ভাড়া করবেন। কারণ আমাদের দেশে সব হাসপাতালকে ঘিরে এক ধরনের দালাল চক্র থাকে যারা কমিশনের বিনিময়ে জরাজীর্ণ অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেবে। বেশিরভাগ জরাজীর্ণ অ্যাম্বুলেন্স স্থানীয় প্রশাসনকে হাত করেই চলে। এমন অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গেলে রাস্তায় বিকল হতে পারে এমনকি দুর্ঘটনারও শিকার হতে পারে।

এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।