কুকুরের কামড়ে নারী শিশুসহ আহত ৩০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ১৭ মে ২০১৮

বাগেরহাটে কুকুরের কামড়ে নারী শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জনকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ও মির্জাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী ওই কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

অন্যদিকে, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের চাকুলি গ্রামে কুকুরে কামড়ানো গরুর দুধ পান করে আতঙ্কিত হয়ে নারী শিশুসহ প্রায় নব্বইজন বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুকুরে কামড়ে আহতরা হলেন- বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া গ্রামের আনিস হাওলাদার (১০), সুমন শেখ (১০), তাওহিদুল ইসলাম (১৩), সোভিক দে (১৪), মিরাজুন্নাহার লুসি (৩৮), ময়না বেগম (৬০), সাইদ শেখ (৩৫), আনোয়ারা বেগম (৩০), জাইমা বেগম (৬০), মো. আলী শেখ (৪৫), হালিমা বেগম (৫৫) ও সবিতা পাল (৪৫)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আলী শেখ বলেন, আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। এসময় পেছন থেকে আসা একটি কুকুর হঠাৎ করে আমার পেছনে কামড়ে ঝুলে থাকে। আমি চিৎকার শুরু করলে কুকুরটি আমার পেছনের মাংসে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়ে দৌড় দেয়। পরে আমার স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

Bagerhat-Dog-Bite

কাড়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হোসেন বলেন, গত দুদিনে কাড়াপাড়া ও মির্জাপুর গ্রামের অন্তত নারী শিশুসহ অন্তত ৩০ জনকে কামড়া দেয় কুকুরটি। পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আমরা এলাকাবাসী সবাই মিলে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছি।

ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফোরকান শিকারী বলেন, ফকিরহাটের চাকুলি গ্রামের বেল্লাল শেখের পোষা গরুর দুধ ওই গ্রামের প্রায় দশটি পরিবার নিয়মিত পান (টাকার বিনিময়ে যোগান) করে আসছে। ওই দশটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা প্রায় একশ জন। কয়েকদিন আগে মালিকের আজান্তে ওই গরুটিকে কুকুরে কামড়ালে গরুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদিকে বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা তাদের জলাতঙ্ক হতে পারে বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা এ বিষয়টি আমাকে জানালে আমি প্রায় ৯০ জনকে চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মশিউর রহমান বলেন, কুকুরে কামড়ানো গরুর দুধ পান করে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কায় শিশু নারীসহ প্রায় ৯০ জন হাসপাতালে আসে। আমরা তাদের প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে চারটি ভ্যাকসিন নিলেই তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে। তারা সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত।

শওকত আলী বাবু/আরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।